যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন থামছেই না। এখনো চলছে নির্মম আক্রমণ। এবার সেখানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত তিন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তারা হলেন, মোহাম্মদ সালাহ কাশতা, আবদুল রউফ শাআত এবং আনাস ঘনেইম।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ইসরায়েলি বাহিনীর ওই হামলায় এএফপির একজন ফ্রিল্যান্সারসহ তিন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার বেসামরিক সামরিক প্রতিরক্ষা দফতর।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকায় একটি ড্রোন পরিচালনাকারী ‘সন্দেহভাজনদের’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ও হামাসের মধ্যে লড়াই অনেকাংশে থেমে গেছে। এর মধ্যেও উভয়পক্ষই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছে।
এক বিবৃতিতে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর বলেছে, গাজা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে আল-জাহরা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোনটি সেনাদের জন্য যে হুমকি তৈরি করছিল, সে কারণে (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) ড্রোনটি সক্রিয় করা সন্দেহভাজনদের নির্ভুলভাবে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে আরও বলা হয়, হামলাটি নির্ধারিত কমান্ড চেইনের অনুমোদন অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, দেওয়া এক বিবৃতিতে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর বলেছে, আল-জাহরার কাছে একটি ‘বেসামরিক যানবাহন’ লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় মিসরীয় রিলিফ কমিটির ত্রাণ বিতরণের ছবি ধারণের জন্য সাংবাদিকরা একটি ড্রোন ব্যবহার করছিলেন। সে সময় তাদের সঙ্গে থাকা একটি যানবাহনকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
হামাস-শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৪৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সময়ের আলো/এনএ