গাজার খান ইউনিস ও মধ্য অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু এবং তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন। এছাড়া পৃথক হামলায় আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোরে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল–বুরশ জানিয়েছেন, যাদের গাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং যারা নিহত হন, তারা সবাই ফটোসাংবাদিক ছিলেন। তারা গাজার জন্য মিসরের ত্রাণ কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা ‘ইজিপশিয়ান কমিটি ফর গাজা রিলিফ’-এর হয়ে কাজ করছিলেন। নিহত তিন সাংবাদিক হলেন আনাস ঘুনাইম, আবদুল রাউফ শাথ ও মোহাম্মদ কেশতা।
সহকর্মী ও চিকিৎসা কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, তারা মধ্য গাজার নেতজারিম করিডরের কাছে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট করছিলেন। এ সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালায়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সড়কের পাশে পুড়ে যাওয়া গাড়ি পড়ে আছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও ধোঁয়া উঠছে।
কমিটির মুখপাত্র মোহাম্মদ মানসুর জানিয়েছেন, সাংবাদিকরা বাস্তুচ্যুতদের জন্য তৈরি নতুন আশ্রয়শিবিরের ছবি তুলছিলেন। হামলার সময় গাড়িটি মিসরীয় কমিটির মালিকানাধীন ছিল এবং এটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে পরিচিত ছিল।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী গাড়িতে থাকা যাত্রীরা ড্রোন ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর তথ্য সংগ্রহ করছিলেন।
একই সময়ে মধ্য গাজার পৃথক হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একই এলাকায় ৩২ বছর বয়সী এক নারীও নিহত হয়েছেন। উত্তর গাজায় আরও দুই ফিলিস্তিনি মারা গেছেন।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়েছে, ওই যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর গাজায় অন্তত ৪৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাছাড়া ইসরায়েল এখনও গাজায় খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়সামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এর ফলে প্রায় ২২ লাখ মানুষ ঠান্ডা আবহাওয়ায় চরম মানবিক সংকটে রয়েছেন।
/ইউএমএইচ