সেচের অভাবে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ৬০০ একর জমিতে বোরো আবাদ না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতায় সময়মতো পানি না পাওয়ায় জমি চাষ করতে পারছেন না কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সময়মতো আবাদ করা না গেলে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ফসল ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এতে শুধু কৃষকরাই নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে।
কৃষকরা জানান, বর্তমানে বোরো আবাদের সময় অতিক্রম হচ্ছে। অথচ এখন পর্যন্ত সেচ পাম্প বসানোর স্থান নিয়ে বিরোধ চলমান রয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পাম্প বসাতে বসাতে রোপণের সময় পার হয়ে যাবে। এরপর জমিতে পানি এলেও কৃষকেরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিএডিসির আওতায় ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই ঠিকাদার পানির কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি। টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এলাকায় কোনো সেচ পাম্প বা মেশিন স্থাপন করা হয়নি।
এদিকে সেচ পাম্প বসানোর নির্ধারিত স্থানটি এক পক্ষ তাদের মালিকানাধীন ভূমি দাবি করে সেখানে পাম্প বসাতে বাধা দিয়েছে। ফলে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, প্রকল্পের ঠিকাদারের কাছে পাম্প স্থাপনের কথা বলা হলেও তিনি তা আমলে নিচ্ছেন না। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কৃষক হাবুল মিয়া জানান, তিনি ৪০ মণ ধানের বিনিময়ে জমি ইজারা নিয়েছেন। আবাদ করার জন্য তিনি প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ করে বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু পানির অভাবে তিনি এখনো জমিতে চারা রোপণ করতে পারছেন না। বর্তমানে তার বীজতলার বয়স দুই মাসেরও বেশি হয়ে গেছে। এই চারা দিয়ে এখন রোপণ করলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে না জানান তিনি।
কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাওরগুলোতে পুরোদমে বোরো আবাদ ও চাষাবাদের কর্মযজ্ঞ চললেও তাদের এলাকায় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, সম্প্রতি জানতে পেরেছি সেচের পানি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে বিএডিসি সেচ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করবো।
ভুক্তভোগী কৃষকরা, সেচ পাম্প স্থাপন করে পানি সরবরাহ নিশ্চিত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানিয়েছেন।
বিএডিসির সেচ প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রেজাউল করিম জানান, অতিদ্রুত বিষয়টি সমাধান করা হবে। কৃষকদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/আআ