শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দিয়ে মাদরাসার সভাপতি হয়েছিলেন চট্টগ্রামের ভুজপুর থানা যুবদল নেতা মো. একরামুল হক। পরে তদন্তে জাল সনদের বিষয়টি ধরা পড়ে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাদ্রাসা সুপারকে চিঠি দিয়েছে সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
যুবদল নেতা একরামুল হক ভুজপুর থানা যুবদলের নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি দাঁতমারা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি হতে গেলে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে স্নাতক বা সমমান। এসব যোগ্যতা না থাকলও একরাম ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা মঈনুল উলুম দাখিল মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হয়েছিলেন।
সভাপতি হওয়ার সময় তিনি মাদরাসার সুপারকে এসএসসি ও এইচএসসিসহ সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির বিবিএ’র সনদ জমা দেন। তবে পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সনদ যাচাই-বাছাই করতে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, তার বিবিএ ডিগ্রিটি ভুয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী আইডি নং ১১১-৩১-৫৫ এর বিপরীতে কোনো সনদ নেই।
একইভাবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক পত্রে মো. একরামুল হকের এসএসসি ও এইচএসসি সনদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ডে ‘ফলস’ বা অসত্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ওই সনদগুলোর আইডি নম্বর অনুযায়ী তাদের ডাটাবেজে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য নেই।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য, রাষ্ট্র স্বীকৃত কোনো সনদ ভুয়া প্রমাণিত হলে সেটি প্রশাসনিক ও আইনগত, উভয় দিক থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখার সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতেই মো. একরামুল হক দাঁতমারা মঈনুল উলুম দাখিল মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হন। রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাবের কারণে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করেননি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে এমন ব্যক্তি থাকলে শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
যুবদল নেতার এমন কাজে নেতা-কর্মীদের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বর্তমানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো ইমেজ সংকটে পড়েছে।
দাঁতমারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, শিক্ষার মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এমন জালিয়াতি প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় হুমকি। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
অভিযুক্ত মো. একরামুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
দাঁতমারা মঈনুল উলুম দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি এই পদে থাকায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিব্রত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আআ