ঢাকা
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বাস চলাচলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)
শিক্ষার্থীদের জন্য টোল মওকুফের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয়
ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এ ছাড়াও ডাকসুর উদ্যোগে তরঙ্গ বাসের রুট বসিলা
পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে ডাকসু ভবনে আয়োজিত এক
সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডাকসুর নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত
ছিলেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ
আব্দুল্লাহ, সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ, শাহিনুর রহমানসহ
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি বাস রুটের সভাপতি, সেক্রেটারি ও সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তিবর্গ।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ
আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী পরিবহন খাতে একাধিক কাজ
ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং আরও কিছু কার্যক্রম চলমান। এর অংশ
হিসেবে তরঙ্গ বাস রুটে অতিরিক্ত দুটি ট্রিপ (একটি আপ ও একটি ডাউন) শহিদ
বুদ্ধিজীবী সেতু (বসিলা সেতু) পার হয়ে পরবর্তী স্টপেজ পর্যন্ত সম্প্রসারণ
করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই এ সেবা শুরু হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে
অর্থাৎ রোববার থেকে নিয়মিত সকাল ও বিকাল দুটি সময়েই বাস চলবে।
তিনি
বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনের সবচেয়ে দীর্ঘ বাস রুট হলো ক্ষণিকা।
এটি ক্যাম্পাস থেকে গাজীপুর পর্যন্ত চলাচল করে। দীর্ঘ যানজটের কারণে এ
রুটের বাসগুলো নিয়মিত এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এটি
টোল আওতামুক্ত না হওয়ায় এতদিন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টোল আদায় করা হতো।
এক্সপ্রেসওয়েতে টোল মওকুফ করা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল। সেই
দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর আজ থেকে শিক্ষার্থীদের
জন্য এ টোল সম্পূর্ণ ফ্রি করা হয়েছে। টোল বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে।’
আসিফ
আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরে রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা ও ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায়
ক্যাম্পাসের আটটি প্রবেশপথে নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনায়, নির্দিষ্ট পোশাকের
আওতায় রিকশা চলাচল ব্যবস্থা শুরু করা হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব
তহবিল থেকে নতুন বাস কেনার পথে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা প্রত্যাহারের
দাবিতে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা চলছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে
শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী বাস সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে।’
সাদিক
কায়েম বলেন, ‘ডাকসু শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়।
সে লক্ষ্যেই ডাকসু নির্বাচনের আগে যেমন শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে তাদের
প্রত্যাশা ও পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল, নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও সেই ধারাবাহিকতা
বজায় রাখা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, গত চার মাসে ডাকসু কী কী কাজ করেছে
এবং কোন কাজগুলো চলমান তা পর্যালোচনার জন্য নিয়মিত হলভিত্তিক কার্যক্রম
পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধেক অনাবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গেও বসে
তাদের সমস্যাগুলো শোনা হচ্ছে এবং যেখানে ঘাটতি রয়েছে সেগুলো পূরণের চেষ্টা
চলছে। শিগগিরই গত চার মাসের কাজের অগ্রগতি নিয়ে একটি বিস্তারিত সংবাদ
সম্মেলন আয়োজন করা হবে।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, অনাবাসিক
শিক্ষার্থীদের পরিবহন সমস্যা দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি বাস
রুটের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে এক্সপ্রেসওয়ে
ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের টোল পরিশোধের বিষয়টি ছিল একটি বড় সংকট।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ইউজিসির চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় এখন থেকে
শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সপ্রেসওয়ে টোল সম্পূর্ণ ফ্রি করা হয়েছে, যা একটি বড়
অর্জন।
ডাকসু ভিপি বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থিত সুফিয়া কামাল
হল, কুয়েত মৈত্রী হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত
শাটল বাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন বাস যুক্ত করার উদ্যোগও
নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ
এলাকাগুলোতে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে
টিএসসি ও ভিসি চত্বরের আশপাশের এলাকায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত
করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে সেখানে স্টার লিংকের
ব্যবস্থা করা।’
সময়ের আলো/এসকে/