কালজয়ী থ্রিলার সম্রাট

ফরিদ আহমদ দুলাল

বাংলা সৃষ্টিশীল সাহিত্যালোচনায় বিভিন্ন সময় নানা মুখে অথবা লেখায় আমরা জেনেছি বঙ্কিমচন্দ্র অথবা রবীন্দ্রনাথের নাম, জেনেছি বিভূতিভূষণ এবং শরৎচন্দ্রের নাম,

2026-01-23T11:06:40+00:00
2026-01-23T11:06:40+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
কালজয়ী থ্রিলার সম্রাট
কাজী আনোয়ার হোসেন
ফরিদ আহমদ দুলাল
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৬ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বাংলা সৃষ্টিশীল সাহিত্যালোচনায় বিভিন্ন সময় নানা মুখে অথবা লেখায় আমরা জেনেছি বঙ্কিমচন্দ্র অথবা রবীন্দ্রনাথের নাম, জেনেছি বিভূতিভূষণ এবং শরৎচন্দ্রের নাম, কখনো জেনেছি মানিক, সুনীল, শীর্ষেন্দু বা সমরেশের নাম; জেনেছি শওকত ওসমান, রশীদ করিম, আবু রুশদ, হাসান আজিজ, শাহেদ আলী, শহীদুল্লাহ, রিজিয়া, হুমায়ূন বা শহিদুলের নাম; কাজী আনোয়ার হোসেন নাম কি সম্ভ্রমের সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে? মনে করতে পারছি না; সেখানে যেন সবসময় তিনি অপাঙ্ক্তেয়ই থেকেছেন।

অন্য পাঁচজন কথাসাহিত্যিক, গল্পকার বা ঔপন্যাসিকের নাম যতটা সম্ভ্রমের সঙ্গে উচ্চারিত হতে শুনি; তাকে কি কখনো সে বিবেচনায় লেখক হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়েছে? সহজ উত্তর হয়নি। 

কিন্তু বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের কাছে তার জনপ্রিয়তা কি অন্য যে কারও চেয়ে কম ছিল? না তাও নয়। তার একজন পাঠক হিসেবে, আজ যখন তার সাহিত্যস্মৃতি স্মরণ করছি, কিছুতেই তাকে খাটো করে দেখতে পাচ্ছি না। বারবার মনে হচ্ছে তার মতো প্রভাববলয় সৃষ্টিকারী একজন লেখক অপাঙ্ক্তেয় হন কীভাবে! তিনি তার মেধা দিয়ে, আধুনিক মনন দিয়ে, বিচিত্র মনীষা দিয়ে সাহিত্য ভাবনার স্বতন্ত্র ভুবন তৈরি করেছিলেন নিজের সময় গণ্ডিতে; এ কী কোনো সামান্য বিষয়?

কলাকৈবল্যবাদী পণ্ডিতরা কে কী বলবেন, আমি জানি না; কে তাকে সাহিত্যিক হিসেবে মান্যতা দেবেন, কে দেবেন না, আমি জানি না; কিন্তু তিনি যে আমার এবং আমাদের কৈশোর আর যৌবনের অনেক বছরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলেন তার অবাক সৃষ্টিকারিশমায়; সে কথা নিশ্চয়ই আমি অকপটে উচ্চারণ করব। 

প্রচলিত অর্থে বাংলা সাহিত্যের অসংখ্য জনপ্রিয় এবং মনোপ্রিয় কথাসাহিত্যিকের তালিকায় তার নাম নেই; আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে তিনি একসময় প্রায়নিষিদ্ধ লেখক হিসেবে অনেকটা অস্পৃশ্য ছিলেন; সে কথাও মিথ্যে নয়, জীবন সায়াহ্নে তার ‘মাসুদ রানা’ এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের বইয়ের কপিরাইট নিয়ে লেখক শেখ আবদুল হাকিম মামলা করেন, তিনি দাবি করেন, মাসুদ রানা সিরিজের ২৬০টি ও কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব বা মালিকানা দাবি কেবল তার। শুনানি শেষে কপিরাইট অফিস মাসুদ রানা সিরিজের ২৬০টি ও কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে শেখ আবদুল হাকিমের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়। 

উল্লেখ্য, মাসুদ রানা সিরিজের প্রায় পাঁচশর কাছাকাছি এবং কুয়াশা সিরিজের মোট ৭৮টি বই প্রকাশিত হয়েছিল। যে মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ কারও নেই; সে কথা মিথ্যে নয়। শেখ আবদুল হাকিমের দাবিকৃত বইগুলো বাদ দিলেও মাসুদ রানা সিরিজের প্রায় ২৫০টি এবং কুয়াশা সিরিজের ২৮টি বই কাজী আনোয়ার হোসেন নিজেই লিখেছিলেন ধরে নেওয়া যায়।

কাজী আনোয়ার হোসেনের সাহিত্যস্মৃতি নিয়ে আলোচনায় বসে নিষ্পত্তি উত্তর কিছু সম্ভাবনার ওপর সামান্য আলোকপাত করতে চাই; যদিও জানি, আমার বক্তব্যে মামলার রায়ে কোনো হেরফের হবে না; তারপরও প্রিয় লেখকের পক্ষে সামান্য কথা এবং যুক্তি প্রদর্শন করে নিজের মান্যতাকে আলোকিত করতে চাই। ১৯৬৬ সালে ‘ধ্বংস পাহাড়’ শিরোনামের গ্রন্থটি দিয়ে শুরু করা হয় সেবা প্রকাশনীর মাসুদ রানা সিরিজের এ বই। সিরিজের প্রথম দুটি বই মৌলিক হলেও পরবর্তীতে ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষার বইয়ের ভাবানুবাদ এবং ছায়া অবলম্বনে রচিত হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। 

মাসুদ রানার চরিত্রটিকে মূলত ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রটির বাঙালি সংস্করণ হিসেবে সৃষ্টি করেছিলেন লেখক। কিন্তু পরবর্তীতে সিরিজটি বাংলা বইয়ের জগতে স্বকীয় একটি স্থান ধরে রাখে। কুয়াশা সিরিজটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৪ সালে ‘কুয়াশা-১’ প্রকাশের মাধ্যমে। দুটি সিরিজেরই প্রকাশক ছিল কাজী আনোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন সেবা প্রকাশনী। ১৯৬৪ থেকে ২০১৮ অর্থাৎ গ্রন্থ প্রকাশের ৫৪ বছর পর শেখ আবদুল হাকিম কপিরাইটের মামলা করেন; এর আগে চুয়ান্ন বছর ধরেই কিন্তু দুজন একসঙ্গে বাণিজ্য করেছেন!

২.সহস্র সমালোচনার পরও বলি, কাজী আনোয়ার হোসেন একজন প্রভাববিস্তারী শিল্পী। আমার এবং আমার মতো অনেককেই পাঠব্রতী করেছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন; সুতরাং তার প্রতি বিস্ময়-শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার কোনো সীমা-পরিসীমা থাকে না।

বাংলা সৃষ্টিশীল সাহিত্যালোচনায় কখনো কারও মুখে বা লেখায় কাজী আনোয়ার হোসেন উচ্চারিত হয়েছে মনে করতে পারছি না; বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমালোচক নিজের আলোচনার প্রয়োজনে নানা কথাসাহিত্যিকের নাম উচ্চারণ করেছেন; আমি মনে করি কাজী আনোয়ার হোসেনের নাম সম্ভ্রমের সঙ্গে না হোক, অবজ্ঞার সঙ্গে হলেও তার নামটি উচ্চারিত হওয়া উচিত; কেন? সেটিই আজকের আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য। 

হোক তিনি অপাঙক্তেয়; তাকে তা-ই বলা হোক, কেন অপাঙক্তেয় তা-ও বলা হোক। তার একজন পাঠক হিসেবে, আজ যখন তাকে স্মরণ করছি; কিছুতেই তাকে খাটো করে দেখতে পারি না। বারবার মনে হচ্ছে তার মতো প্রভাববলয় সৃষ্টিকারী একজন লেখক অপাঙ্ক্তেয় হন কীভাবে! তিনি তার মেধা দিয়ে, আধুনিক মনন দিয়ে, বিচিত্র মনীষা দিয়ে সাহিত্য ভাবনার স্বতন্ত্র ভুবন তৈরি করেছিলেন নিজের সময় গণ্ডিতে; একি কোনো সামান্য বিষয়? কলাকৈবল্যবাদী পণ্ডিতরা নিশ্চয়ই ভিন্নমত পোষণ করবেন, চাই কী আমায় বাতিলও করে দিতে পারেন।

কাজী আনোয়ার হোসেনের জীবনচর্চায় তাকালে দেখি, বাংলা ভাষা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর পাস করার পরও তিনি চাকরি করতে আগ্রহী ছিলেন না; তিনি বরং স্বাধীন জীবনযাপনে আগ্রহী ছিলেন; হয়তো তাই জীবিকার সন্ধান করেছিলেন ‘বৈশাখী’ নামক চায়ের দোকান দিয়ে; অতঃপর ছোট্ট একটা মুদ্রণালয় দিয়ে শুরু করেন প্রকাশনা ব্যবসায়।

বেতার টেলিভিশনে কয়েক দিন গান গাইতেন; কয়েকটি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকও করেছিলেন। ১৯৬৭ তে প্রকাশনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠার কারণে সংগীতচর্চা ছেড়ে দেন। তার সংগীতচর্চার স্মৃতি স্মরণ করে নির্দ্বিধায় বলতে পারি, চাইলে তিনি একজন সংগীতশিল্পী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন।

আমাদের কৈশোরকালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্রের বেশ কয়েকটি গান কেবল আমাকেই নয় আন্দোলিত করেছিল সারা দেশ। গানগুলোর কোনো কোনোটি যেন জীবনে আগাম যৌবন এনে দিতে চাইত; ইচ্ছে হতো দ্রুত ওই গানগুলো গাওয়ার মতো লায়েক হয়ে উঠি। গানগুলোর গীতিকার ছিলেন সৈয়দ শামসুল হক, সুরকার সত্য সাহা; ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্রের একটি গান আমাদের উদাস করে তুলত; গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আবদুল আলীম ও কাজী আনোয়ার হোসেন। অসাধারণ সে গান ‘এই যে আকাশ এই যে বাতাস/ বউ কথা কও সুরে যেন ভেসে যায়/ বেলা বয়ে যায় মধুমতি গায়/ ওরে মন ছুটে চল চেনা ঠিকানায়...’ এ গানের শিল্পী আবদুল আলীমকে আগে থেকেই জানতাম, কিন্তু কাজী আনোয়ার হোসেনকে তখন জানতাম না। 

অতঃপর যখন বুঁদ হয়ে কুয়াশা আর মাসুদ রানা পড়ছি, তখনও জানতে পারিনি কিশোর বয়সের ভালো লাগা গানের শিল্পীই কুয়াশা আর মাসুদ রানার স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন; যখন জানলাম, তখন বিস্ময়ের সীমা রইল না! কাজী আনোয়ার হোসেনের সমসাময়িক কালে বা তারও আগে বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা গল্প লেখকের সন্ধান আমরা পেয়েছি; বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের বেশ কজন রহস্যলেখক এবং গোয়েন্দা কাহিনির লেখকের বই পড়ার সুযোগ আমরা পেয়েছি; কিন্তু কাজী আনোয়ার হোসেন যেভাবে আমায় এবং আমাদের আচ্ছন্ন করেছেন; বোধকরি তেমনটি অন্য কেউ পারেননি। 

গদ্যের গতিময়তা আর ভাষার সাবলীল গাঁথুনির জাদুতে, মনের অজান্তে কখন যেন হাত ধরে নিয়ে যেত কখনো কায়রো, কখনো বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের পথে, কখনো কাঠমান্ডু, কখনো ইউরোপে, কখনো করাচি বা কাশ্মিরে; কখনো আবার মরুভূমির বালুকাময় প্রান্তরে। কত সহজে একজন গোয়েন্দার রোমাঞ্চকর জীবন কাহিনি বুকের ভেতর জাগিয়ে তুলত নায়ক হওয়ার স্বপ্ন! তার গল্পগুলোর সমসাময়িকতা, আধুনিক এবং সাবলীল বুননকৌশল বিস্মিত করত বারবার। 

কাজী আনোয়ার হোসেনের ঘোরে থাকতে থাকতে বিস্ময়ের সঙ্গে জানা হলো তার পারিবারিক পরিচিতি। শ্রদ্ধা বেড়ে গেল তার ওপর। বিশেষ করে আবদুল আলীমের মতো দরাজ গলার কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গান গেয়ে যাওয়া সহজ কথা নয়! গানটি যতবার শুনেছি, মনে হয়েছে দুজন শিল্পী যেন সমান্তরাল উচ্চতায় পাল্লা দিয়ে গাইছেন! অবশ্য তার পারিবারিক পরিচয় জানার পর, পলকেই বিস্ময়ের ঘোর কেটে গেল। অমন সংস্কৃতিবান্ধব পরিবারে এমনটি হওয়া বিচিত্র কিছু নয়।

৩.আমাদের প্রিয় লেখক, অনুবাদক ও প্রকাশক কাজী আনোয়ার হোসেন প্রয়াত হয়েছেন বেশ কবছর, দেখলাম সবাই তাকে ভুলে গেছি, কেউ আবার হৃদয়ের অতি আবেগে তাকে মনেও রেখেছেন, যদিও মনে রাখার সংখ্যা অঙ্গুলিমেয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। ২০২১-এর ৩১ অক্টোবর কাজী আনোয়ার হোসেনের প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে। মাঝে পাঁচবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসার খুব একটা সুযোগ পাওয়া যায়নি; বিভিন্ন সময় তার সম্পর্কে এসব খবর জানা হয়ে যেত ভালো লাগার আগ্রহ থেকে। সেই ভালো লাগার মানুষটি, একটা ব্রেন স্ট্রোক আর হার্ট অ্যাটাকে সহসাই থেমে গেলেন। ঘটল; কথাসাহিত্যের একটি অধ্যায় যেন পলকে দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল!

১৯৩৬ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন বরেণ্য এই লেখক-প্রকাশক। তার পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম নবাব। তার পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, দাবাড়ু ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। ১৯৫২ সালে সেন্ট গ্রেগরি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন কাজী আনোয়ার হোসেন। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করেন।

১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর রেডিওতে তিনি নিয়মিত গান গাইতে শুরু করেন। তার বোন সনজীদা খাতুন, ফাহমিদা খাতুন ও মাহমুদা খাতুন তিনজনই রবীন্দ্রসংগীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯৬২ সালে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য এক সংগীত পরিবারের মেয়ে কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিনকে বিয়ে করেন কাজী আনোয়ার হোসেন। ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে তিনি দ্বৈত কণ্ঠের গানে সুরও মিলিয়েছেন। ১৯৬৩ সালের মে মাসে বাবার দেওয়া দশ হাজার টাকা ও দুজন কর্মচারী নিয়ে সেগুনবাগিচায় প্রেসের ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীকালে যার নাম পাল্টে রাখা হয় ‘সেবা প্রকাশনী’। 

এরপর তার হাত ধরে বাংলাদেশে পেপারব্যাক গ্রন্থ প্রকাশিত হতে শুরু করে। সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসেবে কাজী আনোয়ার হোসেন ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গোয়েন্দা চরিত্র সৃষ্টি করেন। এর আগে কুয়াশা নামের আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র জন্ম দিয়েছিলেন তিনি; বাংলাদেশের সাহিত্য ইতিহাসে তিনিই প্রথম কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্রের কাহিনিনির্ভর থ্রিলার রচনা করে আমাদের সাহিত্যে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেন। কুয়াশা চরিত্রকে নিয়ে তিনি প্রায় ৭৮টি এবং মাসুদ রানার ৫০০ কাহিনি রচনা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। 

তিনি ‘বিদ্যুৎ মিত্র’ ও ‘শামসুদ্দীন নওয়াব’ ছদ্মনামেও বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তার কাহিনি নিয়ে মাসুদ রানা, কুয়াশাসহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন সময়। শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে তিনি বাচসাস পুরস্কারসহ বেশ কিছু পুরস্কারও পেয়েছিলেন। 

তার মাসুদ রানা এবং কুয়াশা সিরিজের বইয়ের সঙ্গে যদি পরিচয় না ঘটত তা হলে এ জীবনে হয়তো আমার পাঠাভ্যাসই তৈরি হতো না! আমি যে উচ্চমার্গীয় বড় বড় লেখকের ভারী ভারী বই পড়ার সাহস সঞ্চয় করেছি, তার পেছনে প্রেরণা ছিলেন একজন কালজয়ী কথাশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন।

সময়ের আলো/এআর



  বিষয়:   কালজয়ী  থ্রিলার  সম্রাট 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: