অনিশ্চিত ৬০০ একরের চাষাবাদ

মো. আবু হেনা আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)

চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার এক নম্বর সদর ইউনিয়নের বিরাট ভাটিপাড়া নোয়াবন সেচ প্রকল্পের আওতায় ভয়াবহ কৃষি সংকট

2026-01-24T01:46:02+00:00
2026-01-24T01:46:02+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
অনিশ্চিত ৬০০ একরের চাষাবাদ
মো. আবু হেনা আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৬ এএম 
সংগৃহীত ছবি
চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার এক নম্বর সদর ইউনিয়নের বিরাট ভাটিপাড়া নোয়াবন সেচ প্রকল্পের আওতায় ভয়াবহ কৃষি সংকট দেখা দিয়েছে। বোরো আবাদ শুরুর উপযুক্ত সময় পার হলেও সেচের পানি না থাকায় কৃষকরা জমিতে চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না। এতে ওই সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬০০ একর আবাদযোগ্য জমি অনাবাদি হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সময়মতো আবাদ করা না গেলে এ এলাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এতে শুধু কৃষকরাই নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, সম্প্রতি জানতে পেরেছি এক নম্বর সদর ইউনিয়নের বড় একটি অংশে সেচের পানি নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিএডিসি সেচ প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।

জানতে চাইলে বিএডিসির সেচ প্রকল্পের সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রেজাউল করিম বলেন, দ্রুত বিষয়টির সমাধান করা হবে। কৃষকদের যাতে আর কোনো ক্ষতি না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ইউএনও।

সরেজমিন কৃষকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বর্তমানে বোরো আবাদের উত্তম সময় দ্রুত অতিক্রম হচ্ছে। অথচ এখন পর্যন্ত সেচ পাম্প বসানোর স্থান নিয়ে বিরোধ চলমান রয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাদের আশঙ্কা, বিরোধ নিষ্পত্তি হয়ে পাম্প বসাতে বসাতে রোপণের সময় পার হয়ে যাবে। এরপর জমিতে পানি এলে কৃষকরা আরও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিএডিসির আওতায় ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ওই ঠিকাদার পানির কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি। টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এলাকায় কোনো সেচ পাম্প বা মেশিন স্থাপন করা হয়নি। এদিকে সেচ পাম্প বসানোর নির্ধারিত স্থানটি এক পক্ষ তাদের মালিকানাধীন ভূমি দাবি করে সেখানে পাম্প বসাতে বাধা প্রদান করছে। ফলে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, একাধিকবার প্রকল্পের ঠিকাদারের কাছে দ্রুত সেচ পাম্প স্থাপনের তাগিদ দেওয়া হলেও তিনি বিষয়টি কোনোভাবেই আমলে নিচ্ছেন না। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় কৃষক হাবুল মিয়া জানান, তিনি ৪০ মণ ধানের বিনিময়ে জমি ইজারা নিয়েছেন। জমিতে আবাদ করার জন্য তিনি প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ করে বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু পানির অভাবে তিনি এখনও জমিতে চারা রোপণ করতে পারছেন না। বর্তমানে তার বীজতলার বয়স দুই মাসেরও বেশি হয়ে গেছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, এই চারা রোপণ করলেও কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া যাবে না।

কৃষক আলমগীর মিয়া, রকিব মিয়া ও হুসেন মিয়া জানান, বর্তমানে বোরো আবাদের সময় প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এখন সেচের পানি এলেও জমিতে যে পরিমাণ খরচ হবে সেই অনুপাতে ফসল পাওয়া যাবে না। তাদের ভাষায়, এখন পানি এলে সেচ প্রকল্পের চুক্তি, জমির ইজারা, ধান রোপণ, কীটনাশক ও সারসহ সব ধরনের খরচ দিয়ে আমাদের ভাগে জুটবে লোকসান।

এদিকে কৃষি শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বোরো মৌসুমে বিভিন্ন কৃষকের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে যে আয় হয় তা দিয়েই তাদের পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু এবার আবাদ বন্ধ থাকায় কাজ নেই। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পার্শ্ববর্তী হাওড়গুলোতে পুরোদমে বোরো আবাদ ও চাষাবাদের কর্মযজ্ঞ চললেও তাদের এলাকায় বোরো জমি আবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। দ্রুত সেচের ব্যবস্থা না হলে এ মৌসুমে বোরো ধান আবাদ করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে। ভুক্তভোগী কৃষকরা দ্রুত সেচ পাম্প স্থাপন করে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকার বোরো উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

এএডি/


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: