বর্ষায় কাদা, শীতে ধুলার যন্ত্রণা

মেহেদী হাসান লিটন, শ্রীপুর (গাজীপুর)

বর্ষা এলে কাদায় ডুবে যায় আর শীত মৌসুমে ধুলাবালিতে সাদা হয়ে ওঠে নয়নপুর বাজার থেকে চকপাড়া মেডিকেল মোড় পর্যন্ত প্রায়

2026-01-24T01:49:50+00:00
2026-01-24T01:49:50+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
বর্ষায় কাদা, শীতে ধুলার যন্ত্রণা
মেহেদী হাসান লিটন, শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৯ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বর্ষা এলে কাদায় ডুবে যায় আর শীত মৌসুমে ধুলাবালিতে সাদা হয়ে ওঠে নয়নপুর বাজার থেকে চকপাড়া মেডিকেল মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক। চলাচলের প্রায় অযোগ্য এই সড়ক এখন যেন স্থানীয়দের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা হাজারো মানুষের প্রতিদিনের যাত্রা রীতিমতো যুদ্ধ হয়ে উঠেছে।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শিল্প কারখানার শ্রমিক, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও পথচারীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে সড়কটি কিন্তু খানাখন্দে ভরা এ পথে পা বাড়ালেই বিপদ। কখনো পা পিছলে পড়ে যাওয়া, কখনো যানবাহন বিকল, আবার কখনো উল্টে যাওয়ার আতঙ্ক নিয়ে চলতে হয় পথ। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কাদার সাগরে ডুবে অনেক সময় সড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বেহাল এই সড়ক দিয়েই আমাদের চলতে হয় কিন্তু কেউ যেন আমাদের কষ্ট দেখে না। দীর্ঘদিন ধরে এমন বেহাল অবস্থার পরও কার্যকর সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে মাওনা-গাজীপুর বাজার সড়কের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি)। সড়কটির দুই পাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন ভারী যানবাহনসহ হাজারো শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষ এই পথে চলাচল করেন।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হোসেন বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমরা অবগত। আপাতত কোনো বরাদ্দ নেই। তবে প্রাক্কলন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন দফতরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে এক কিলোমিটার অংশে এইচবিবি পদ্ধতিতে উন্নয়নকাজ করা হলেও শিল্প কারখানার পানি নিষ্কাশনের জন্য বারবার খোঁড়াখুঁড়ির ফলে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এরপর আর কোনো স্থায়ী সংস্কার হয়নি। স্থানীয় সিএনজিচালক জুয়েল রানা বলেন, এই রাস্তায় গাড়ি চালানো মানে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া। অনেক সময় যাত্রীরাও উঠতে চায় না। গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়, আয়ও কমে যায়।

রিদিশা নিটেক্স কারখানার শ্রমিক আলেয়া বেগম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাফেরা করে। বর্ষায় কাদায় আর শুকনায় ধুলাবালি মেখে সাদা হতে হয় আমাদের। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, গাড়ি উল্টে যায়। বাধ্য হয়ে অনেক সময় হেঁটেই যাই। সড়কটা ঠিক হলে আমাদের জীবনটা সহজ হতো।

স্থানীয়দের একটাই দাবি- আর প্রতিশ্রুতি নয়, চাই দ্রুত সংস্কার। নয়নপুর-চকপাড়া সড়ক যেন আর কাদা-ধুলার পথ নয়, মানুষের স্বস্তির পথে পরিণত হয়- এই আশাতেই দিন গুনছেন এলাকাবাসী।

এএডি/


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: