সিরাজগঞ্জের তাড়াশে জমজমাট প্রায় ৩৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী দইয়ের মেলা। শুক্রবার সকাল থেকে দিনব্যাপী তাড়াশ পৌর সদরের ঈদগাঁহ মাঠে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে নানারকম দই, মুড়ি-মুড়কিসহ বাহারি পণ্যসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে মেলায়। এই মেলাকে ঘিরে এলাকায় সাজসাজ রব পড়ে গেছে। মেলায় দইয়ের পাশাপাশি মোয়া, চিড়া, ঝুড়ি, মুড়ি-মুড়কি, চিড়া, মোয়া, বাতাসা, কদমা, খেজুরের গুড়সহ রসনাবিলাসী নানা খাবার কেনাবেচা হচ্ছে।
তাড়াশ পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা সনাতন সংস্থার সভাপতি তপন কুমার গোস্বামী জানান, জমিদারি আমলে তাড়াশের তৎকালীন জমিদার পরম বৈষ্ণব বনোয়ারী লাল রায় বাহাদুর প্রায় ৩৫০ বছর আগে প্রথম রশিক রায় মন্দিরের মাঠে এই দইমেলার প্রচলন করেছিলেন। সেই সময়ে জমিদার রাজা রায় বাহাদুর দই ও মিষ্টান্ন পছন্দ করতেন। তাই জমিদার বাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়নে এ অঞ্চলে ঘোষদের তৈরি দই পরিবেশন করতেন। আর সে থেকেই জমিদারবাড়ির সামনে রশিক রায় মন্দিরের মাঠে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী দইমেলার প্রচলন শুরু হয়।
জনশ্রুতি রয়েছে, সেই সময়ে প্রতি বছর মেলায় আগত সবচেয়ে ভালো সুস্বাদু দই তৈরিকারক ঘোষকে জমিদারের পক্ষ থেকে উপঢৌকন দেওয়ার রেওয়াজও ছিল। তবে বর্তমান সময় জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর সেই রেওয়াজও আর নেই।
সরজমিন দেখা যায়, মেলায় স্থানীয় ঘোষদের তৈরি দইসহ, বগুড়া, শেরপুর, চান্দাইকোনা ও শ্রীপুর থেকে দই নিয়ে এসেছেন ঘোষেরা। প্রতি কেজি দই মানভেদে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
তাড়াশ পৌর এলাকার আনন্দ ঘোষ ও জীবন ঘোষসহ একাধিক দই বিক্রেতা জানান, বর্তমান সময়ে দুধের দাম, জ্বালানি, শ্রমিক খরচ, দইপাত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় দইয়ের দামও কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। তবে মেলা দিনব্যাপী হলেও চাহিদা থাকার কারণে এ বছর ও কোনো ঘোষের দই অবিক্রীত থাকবে না- এমনি আশা করছেন বলে জানান তারা।
এএডি/