মই বেয়ে সেতু পারাপার

শামীম শিকদার কাপাসিয়া (গাজীপুর)

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের সিঙ্গুয়া বাজার থেকে নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার আছাদনগর সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির নির্মাণকাজ চার বছরেও শেষ

2026-01-25T02:29:49+00:00
2026-01-25T02:29:49+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
চার বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ
মই বেয়ে সেতু পারাপার
শামীম শিকদার কাপাসিয়া (গাজীপুর)
প্রকাশ: রোববার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:২৯ এএম 
সেতুর মূল কাঠামোর ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সুফল মিলছে না গাজীপুরের কাপাসিয়া ও নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বাসিন্দাদের। ছবি : সময়ের আলো
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের সিঙ্গুয়া বাজার থেকে নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার আছাদনগর সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির নির্মাণকাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সেতুর মূল কাঠামোর কাজ প্রায় ৯০ ভাগ সম্পন্ন হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় জনসাধারণকে। বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ তাদের পিছু ছাড়ছে না।

সরেজমিন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, নদী পারাপারের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় প্রায় চার বছর আগে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতা এবং অজুহাতে কাজের সময় বারবার পেছান হয়েছে। এতে কাজ অনেক বিলম্বিত হয়েছে। বর্তমানে সেতুর মূল কাঠামো দৃশ্যমান হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় যানবাহন এবং পথচারীদের চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, এই সেতুটি চালু হলে পাশাপাশি দুটি উপজেলা কাপাসিয়া এবং মনোহরদীর শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ত। কিন্তু কাজের দীর্ঘসূত্রতার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষকে কাক্সিক্ষত সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপকালে তারা অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ শেষ হতে দেরি হচ্ছে। তারা দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ পুরো প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়কে অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে প্রকল্পের কাজ।

প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা আরও বলেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০২২ সালের ৭ মার্চ কার্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরুর তারিখ ছিল ওই বছরের ১৩ মার্চ। আর কাজ সমাপ্তির সময় ছিল ২০২৪ সালের ১২ মার্চ। প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পায় মেসার্স মমিনুল হক ট্রেডার্স এবং মেসার্স এনএইচবি ট্রেডার্স (জেভি), রানীর বাজার, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ। প্রকল্পের বিশেষ অবস্থানগত জটিলতার কারণে পরবর্তী সময়ে কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সংশোধিত সময়সীমা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা।

কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ আলীর সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে কাপাসিয়া ও মনোহরদী উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। এই আশায় আমরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেছি। কিন্তু সেতু থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেই আশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। মুহাম্মদ আলী আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে এখানে নদী পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ জন্য সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখেছিলাম আমরা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঝুলে আছে কাজ। 

সংযোগ সড়ক না হওয়ায় সেতুটি এলাকার মানুষের কোনো কাজেই আসছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ রোগীরা। এ ছাড়াও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের। মালামাল পরিবহনে চরম প্রতিবন্ধকতার কারণে তাদের জীবন রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়কটি খুলে দিতে হবে। অন্যথায় এই এলাকার মানুষের ভোগান্তি পিছু ছাড়বে না।

সিঙ্গুয়া বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, ব্রিজ তৈরি হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্রিজটি কোনো কাজেই আসছে না। মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ। এতে এখানকার ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর জোর দাবি, যত দ্রুত সম্ভব সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হোক। অন্যথায় সরকারের কোটি কোটি টাকা অযথা অপচয় হবে। এরই মধ্যে সরকারের বেশিরভাগ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে এই সেতু নির্মাণের পেছনে। সেতুর সিংহভাগ কাজই শেষ হয়ে গেছে। শুধু সংযোগ সড়ক করে দিলেই কাপাসিয়া ও মনোহরদী উপজেলার অগণিত মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। দ্রুত সেতুটি খুলে দেওয়া হোক এটি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। 

এই দাবি পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। অন্যথায় এই সেতু জনস্বার্থে কোনো কাজেই আসবে না। কোনো কার্যকর সুফলও বয়ে আনতে পারবে না।



Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: