ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারে বাড়ছে দুর্ঘটনা

মেহেদী হাসান লিটন, শ্রীপুর (গাজীপুর)

মাত্র কয়েক কদম দূরত্বেই রয়েছে ফুটওভার ব্রিজ। তবুও সেটি ব্যবহার না করে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হচ্ছেন অসংখ্য

2026-01-25T03:08:51+00:00
2026-01-25T03:08:51+00:00
 
  শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬,
৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারে বাড়ছে দুর্ঘটনা
ফুট ওভারব্রিজ থাকলেও নেই ব্যবহার
মেহেদী হাসান লিটন, শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ: রোববার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৮ এএম 
শ্রীপুরে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে মহাসড়ক পার হচ্ছেন পথচারীরা। ছবি : সংগৃহীত
মাত্র কয়েক কদম দূরত্বেই রয়েছে ফুটওভার ব্রিজ। তবুও সেটি ব্যবহার না করে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হচ্ছেন অসংখ্য পথচারী ও যাত্রী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপারের এমন উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যাচ্ছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর ও জৈনা বাজার ফুটওভার ব্রিজ এলাকার নিচে।

গাজীপুর সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের পর যাত্রীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরে গাজীপুর অংশের সালনা, ইপশা গেট, রাজেন্দ্রপুর বাজার, ফায়ার সার্ভিস, হোতাপাড়া, বাঘের বাজার, আনসার রোড, নয়নপুর ও জৈনা বাজার এলাকায় একাধিক ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়। প্রথম দিকে স্থানীয়রা এসব ব্রিজ ব্যবহার করলেও বর্তমানে সময় ও শ্রম বাঁচানোর অজুহাতে অনেকেই নিচ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সড়ক পারাপার করছেন।

নয়নপুর বাজার, জৈনা বাজার এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি ব্রিজের নিচে দীর্ঘ অংশজুড়ে ডিভাইডারের ওপর ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছিল। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, বিভিন্ন স্থানে সেই ব্যারিকেড ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও অসচেতন পথচারীরা সরাসরি মহাসড়ক পার হচ্ছেন।
চার লেনবিশিষ্ট এ মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দূরপাল্লার বাস, পিকআপ, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এমন ব্যস্ত সড়কে শিশু ও বৃদ্ধদের সঙ্গে নিয়েই ব্রিজের নিচ দিয়ে পারাপার চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে এখানে একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে সকাল ৭টা থেকে ৮টা অফিস সময় এবং দুপুর ১টা থেকে ২টা লাঞ্চের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এ অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েক হাজার শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের চলাচল দেখা যায়।

নয়নপুর ও জৈনা বাজার কেন্দ্র করে আশপাশে রয়েছে একাধিক পোশাক কারখানা, টেক্সটাইল মিল ও সিরামিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার সম্ভব হলেও সময় বাঁচাতে তারা ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারকেই বেছে নিচ্ছেন।

সড়ক পারাপারের সময় আলফিয়া আক্তার নামের এক নারী শ্রমিক বলেন, ভাই, ব্রিজে উঠতে সময় লাগে, তাই তাড়াতাড়ি নিচ দিয়ে যাচ্ছি। বাজারের ব্যাগ হাতে দৌড়ে পার হওয়া হুমায়ূন কবির বলেন, ঝুঁকি আছে জানি কিন্তু দ্রুত বাসায় যেতে হবে, তাই ব্রিজে উঠিনি।

এ সময় এক বৃদ্ধ দম্পতি ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিল। তারা বলেন, ব্রিজে উঠতে আমাদের কষ্ট হয়। যদি লিফট থাকত, তা হলে আমাদের মতো বৃদ্ধরা সহজেই ব্রিজ ব্যবহার করতে পারতাম।

স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এত সুন্দর ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও নিচ দিয়ে রাস্তা পার হওয়া মৃত্যুকে ডেকে আনার শামিল। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। ১০-১২ দিন আগেও গোদারচালা গ্রামের রমজান আলী নামে এক ব্যক্তি পিকআপের চাপায় মারা যান। তিনি দ্রুত ব্যারিকেড মেরামত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের নেতা লায়ন মোহাম্মদ গনি মিয়া বাবুল বলেন, শিল্পাঞ্চল শ্রীপুরে স্থানীয় মানুষের তুলনায় বহিরাগত শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। জীবিকার আগে নিরাপদ জীবন জরুরি। নয়নপুর ও জৈনা বাজার এলাকায় মানুষ নিয়মিত ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। আমরা আগেও এখানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম করেছি।
মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, কয়েক দিন আগেও এখানে পিকআপের চাপায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করায় এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা রোধে আমরা সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করব এবং ব্যারিকেড মেরামতের জন্য সড়ক বিভাগকে জানানো হয়েছে।

গাজীপুর সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তারেক হোসেন বলেন, ফুটওভার ব্রিজের নিচে ভাঙা ব্যারিকেডগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দুয়েক দিনের মধ্যে লোক পাঠিয়ে ইস্টিমেট তৈরি করে কাজ শুরু করা হবে। তবে সবার সচেতনতা জরুরি।


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: