কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় দুই দেশ একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছেন বলে জানানো হয়। তবে দাভোসে মার্ক কার্নি বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর সমালোচনা করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আর এরসূত্র ধরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করলে কানাডার সব পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকি দেন তিনি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, কানাডা যদি চীনের সঙ্গে চুক্তি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা কানাডার সব পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
তবে কবে নাগাদ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি ট্রাম্প। গত বছর প্রথমবার কানাডার ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দেন ট্রাম্প। তখন থেকে তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম রাজ্য’ বলে ডাকা শুরু করেন এবং কার্নিকে এর ‘গভর্নর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এসময় দেশটি পুরোপুরি অধিগ্রহণের চেষ্টা করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
এর আগে শুক্রবার কানাডার বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
গাজা পুনর্গঠনে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ কানাডার আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও চীনের সঙ্গে ব্যবসা নিয়ে কানাডাকে আক্রমণ করেন তিনি। এসব মন্তব্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
সপ্তাহের শুরুতে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থায় ‘ভাঙন’-এর সতর্কবার্তা দেন। ট্রাম্পের নাম না নিলেও বক্তব্যে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই বেঁচে আছে। পাল্টা জবাবে কার্নি বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে নয়, তার নাগরিকদের কারণেই সমৃদ্ধ।
এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়িতে কানাডার শুল্ক শিথিল এবং কানাডীয় কৃষিপণ্যে চীনের শুল্ক কমানোর বিষয়ে বৈঠক করেন কার্নি। তখন ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছিলেন বলেও শোনা যায়। কার্নি বলেন, বিশ্ব বদলে গেছে এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি স্থিতিশীল।
/ইউএমএইচ