প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার পরও ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে মুক্তি দেওয়া হয়নি—এমন দাবি ঘিরে দেশজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তবে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন তিনি।
মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, সাদ্দাম বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কোনো লিখিত আবেদন যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়নি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়। কারণ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদনই করা হয়নি। তবে পরিবারের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষ কারাফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে।
এসময় তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোকে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য অনুরোধ জানান।
এদিকে, একই দাবি করা হয়েছে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতেও।
এতে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম গত ১৫ ডিসেম্বর বাগেরহাট কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত হন। তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও শিশু সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলে মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত আবেদন করা হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে—সময় স্বল্পতার কারণে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে পারিবারিক সিদ্ধান্তে কারাগারের গেটেই মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব ছবি ও চিঠি ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলোর সঙ্গে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।
তবে এর আগে শনিবার রাতে সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি এবং প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করি। কিন্তু তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
এর আগে, গত শুক্রবার দুপুরের পর বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের বাড়ি থেকে কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী (২৫) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘরে মেঝেতে পড়ে ছিল তার নয় মাসের শিশু সন্তান নাজিমের নিথর দেহ।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী।
পরে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তানের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাফটকে আনেন স্বজনরা। সব কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের ছয় সদস্যসহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখতে সাদ্দামকে পাঁচ মিনিটের মতো সময় দেওয়া হয়।
নিহত স্বর্ণালীর স্বামী জুয়েল হাসান সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
এফআর