প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:২২ এএম (ভিজিট : ২০৬)
সংগৃহীত ছবিদেশের ক্রিকেটে ব্রাত্য সাকিব আল হাসান এখন বোহেমিয়ান জীবনে অভ্যস্ত। কখনো যুক্তরাষ্ট্রে লিগ খেলছেন, আবার কখনো উড়ে যাচ্ছেন দুবাইয়ে। দুদিন আগে সবশেষ খেললেন সৌদি আরবের ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট ফেস্টিভ্যালে। সাকিবের সঙ্গে সেখানে শোয়েব মালিক, ইমরান তাহির, ইরফান পাঠান, বেন কাটিংয়ের মতো সাবেক তারকা ক্রিকেটারও ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকাটারি ব্যাটার ক্রিস গেইলকে বলা হতো টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা। দেশের জার্সিতে যখন নিয়মিত ছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব, গেইলের মতো তিনিও দেশ-বিদেশের ক্রিকেট লিগে নিয়মিত খেলতেন। দেশের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হওয়ার পর ফেরিওয়ালা ট্যাগটা আরও জোরালো করেছেন সাকিব। এটা অবশ্য পুরোনো কথা। নতুন যে ঘটনা যা ক্রীড়াঙ্গনে বজ্রপাতের সৃষ্টি করেছে তা হলো জাতীয় দলে ফের ফিরছেন সাকিব! বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে তাকে জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তিরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং সেটা সাকিবের সঙ্গে আলোচনা করেই। শনিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানান বিসিবির মিডিয়ার কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। এ বিষয়ে জানতে সাকিবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সাকিবের বরাতে দেশের একটি গণমাধ্যমের খবর, সাকিব এ ধরনের কোনো প্রস্তাবই পাননি।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে আছেন সাকিব আল হাসান। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন কি না তা নিয়েও ছিল শঙ্কা। তবে জাতীয় দলে ফেরার দরজা সাকিবের জন্য একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। তার বিষয়ে বোর্ড আলোচনা করেছে। সাকিব যদি ফিট এবং অ্যাভেইলেবল থাকেন, তা হলে নির্বাচক প্যানেল জাতীয় দলে সাকিবকে বিবেচনা করবে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব। ওই বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ ভারতের কানপুরে সাকিব দেশের হয়ে মাঠে নামেন। সাকিবের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে মূল বাধা তার বিরুদ্ধে মামলা এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সরাসরি নির্দেশনা। সাকিব যাতে ভবিষ্যতে ক্রিকেটে ফিরতে না পারেন এ বিষয়ে কড়া নির্দেশনা ছিল আসিফ মাহমুদের। তবে এখন ভিন্ন অবস্থা। সাকিব ফিরলে তার মামলাসহ অন্য বিষয়ে যাতে ঝামেলায় না পড়েন সে বিষয়টি বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল দেখবেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে সাকিবের বিষয়ে কথা বলেছেন ক্রিকেট বোর্ডের আরেক পরিচালক আসিফ আকবর। তিনি বলেন, ‘সাকিবের সঙ্গে অনেক দিন ধরে যোগাযোগ করেছি, সে চায় দেশ থেকে বিদায় নিতে। সেটা আমরা শুনেছি, যার কারণে বিবেচনা করেছি। সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আবার যদি নতুন সরকার এসে না চায় তা হলে কিছু করার থাকবে না। কিন্তু আমরা (বিসিবি) চাই সাকিব আবার খেলুক। তিনি আরও যোগ করেন, ‘সাকিবের ব্যক্তিগত ইস্যুগুলো কীভাবে কী হবে এটা আলাদা ব্যাপার, সরকারের বিষয়। আমরা বোর্ডের পক্ষ থেকে সাকিবকে চেয়েছি। আমাদের বোর্ডের যে চুক্তিবদ্ধ প্লেয়ারদের তালিকা হবে, সেখানে আমরা সাকিবকে (রাখার) প্রস্তাব রেখেছি। সাকিব দেশে এসে রিটায়ার করবে এটা তার একটা ইচ্ছা। সাকিব একটা ব্র্যান্ড, এমন প্লেয়ার আমরা আর ১০০ বছরেও পাব না।’
সাকিবের ব্যাপারে সবসময়ই ইতিবাচক ছিলেন আসিফ আকবর। সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখন যদি সরকার কিছু করতে চায়, তা হলে সেটা সরকারি সিদ্ধান্ত। সেগুলো আইনগত ব্যাপার। সাকিব আগে প্লেয়ার ছিল, সংসদ সদস্য হওয়ার আগে। সাকিবের বুকে বাংলাদেশের নাম ছিল। সেখান থেকে সম্মান রেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। সাকিবকে আমরা খেলাতে চাই। পরে আইনগত পদক্ষেপ কী এটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় না। আমরা প্লেয়ার সাকিবকে নিয়ে ভাবছি।’
বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে যাওয়া, ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে না খেলার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে থাকার মাঝে হঠাৎ সাকিবের বিষয় ওঠে আসাতে অনেকে বোর্ডের সমালোচনা করছেন। কেউ কেউ আবার বলছেন সাকিবের কারণে যদি কিছুটা হলে দেশের ক্রিকেটের ইমেজ ফেরে। তবে যে যাই বলুক দিনশেষে দেশে ফেরা এবং পুনরায় ক্রিকেটে ফেরার সিদ্ধান্ত একান্তই সাকিব আল হাসানের।
সময়ের আলো/এনএ