‘সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত কেউ খোঁজ নিচ্ছে না’

জিল্লুর রহমান রাসেল হাতিয়া (নোয়াখালী)

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও অর্থের অভাবে থমকে গেছে জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ রিটনের শিশুসন্তানের চিকিৎসা। চার দিন ধরে চিকিৎসাধীন

2026-01-26T03:01:10+00:00
2026-01-26T03:01:10+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
‘সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত কেউ খোঁজ নিচ্ছে না’
জুলাই শহিদ রিটনের স্ত্রী আফসানা
জিল্লুর রহমান রাসেল হাতিয়া (নোয়াখালী)
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০১ এএম 
মেয়ের ওষুধ কেনার মতো টাকাও নেই জুলাই অভ্যুত্থানে রাজধানীতে পুলিশের গুলিতে নিহত শহিদ রিটনের স্ত্রী আফসানার কাছে। ছবি : সময়ের আলো
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও অর্থের অভাবে থমকে গেছে জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ রিটনের শিশুসন্তানের চিকিৎসা। চার দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনও আশানুরূপ উন্নতি হয়নি তার শারীরিক অবস্থার। প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার মতো অর্থ না থাকায় চরম উৎকণ্ঠা আর অসহায়ত্বে দিন কাটছে শিশুটির মায়ের। শিশুটির নাম তানিশা বেগম। সে জুলাই অভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে নিহত শহিদ রিটনের কন্যা। তাদের বাড়ি নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের ২২ নম্বর গ্রামে। বর্তমানে তানিশা হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার পশ্চিম পাশের একটি কক্ষে ভর্তি রয়েছে। 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ডায়রিয়ায় মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হলে তানিশাকে হাসপাতালে আনা হয়। শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হলেও প্রথম দুদিন শয্যার অভাবে হাসপাতালের বারান্দায় থাকতে হয় তাকে। পরে একটি শয্যা জোটে। চার দিন ধরে চিকিৎসা চললেও শিশুটির শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বাড়ি থেকে যে সামান্য টাকা নিয়ে আসা হয়েছিল তা ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে ওষুধ কেনার মতো টাকাও নেই পরিবারের হাতে। 

শহিদ রিটনের স্ত্রী আফসানা বেগম কান্নাভেজ কণ্ঠে বলেন, সবাই এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। কেউ আমাদের খোঁজ নিচ্ছে না। অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে প্রায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। খাবার কিনলে ওষুধ কেনা যায় না, আবার ওষুধ কিনলে খাবার জোটে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, সবাই আমাদের নিয়ে রাজনীতি করে। জুলাই শহিদদের পরিবারকে সরকার অনেক কিছু দেবে এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে আমরা কিছুই পাইনি। এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। অসুস্থ শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে সংসার চালাতে হিমিশিম খেতে হচ্ছে। আমি একাই সংসারের উপার্জনের একমাত্র ভরসা। আফসানা জানান, আগে তাদের সংসার চলত স্বামী রিটনের পাঠানো টাকায়। রিটন ঢাকায় একটি মুদি দোকানে চাকরি করতেন। তার আয়ে পরিবার মোটামুটি ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু রিটনের মৃত্যুর পর পুরো সংসারের ভার এসে পড়েছে আফসানার কাঁধে। কোনো স্থায়ী আয় না থাকায় প্রতিদিনের জীবনযাপনই এখন বড় সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমান চন্দ্র আচার্য বলেন, শহিদ রিটনের শিশুসন্তানটি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে। তখন তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। দ্রুত ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। এখন অনেকটা উন্নতির দিকে রয়েছে। 

শহিদ রিটনের মামা জুয়েল বলেন, চার দিন আগে ডায়রিয়া আক্রান্ত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় শিশুটির মা একাই তাকে নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এরপরও পাশের একটি দোকান থেকে বাকিতে কিছু ওষুধ এনে দিয়েছি। কিন্তু টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো সহযোগিতা করেনি। 

স্থানীয়রা বলছেন, শহিদ পরিবারের সদস্য হয়েও আজ চিকিৎসার অভাবে শিশুসন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে অসহায় অবস্থায় দিন কাটানোর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও মানবিক সহযোগিতা না পেলে শিশুটির চিকিৎসা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হতে পারে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান স্থানীয়রা। 

সময়ের আলো/এনএ 

  বিষয়:   নির্বাচন  ব্যস্ত  খোঁজ  জুলাই শহিদ  রিটনের স্ত্রী  আফসানা 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: