ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রবর্তিত ‘থ্রি জিরো’ ধারণা জাতীয়ভাবে অন্তর্বর্তী সরকার কতটুকু বাস্তবায়ন করেছে তা জনগণকে জানাতে সরকারের মেয়াদ শেষে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত মানববন্ধনে এ আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। অনুষ্ঠানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ‘ক্লিন এনার্জি’ দিবস-২০২৬ উদযাপনও সংযুক্ত ছিল।
তিনি বলেন, ‘থ্রি জিরোর (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ) যে আন্তর্জাতিক প্রচার চালানো হয়, জাতীয়ভাবে তার বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে, সেটি দেশবাসী জানতে চায়।’
জাতিসংঘের সদস্যদেশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্লিন এনার্জি দিবস পালন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষ সচেতন হবে এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্তরা কার্বন নিঃসরণ কমাতে সক্রিয় হবেন। এই দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থতা অত্যন্ত বিব্রতকর।’
তিনি সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি ২০২৫) সমালোচনা করে বলেন, পরিকল্পনা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উত্তরণের জন্য কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এ বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, সরকার জাতীয় নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব রক্ষায় কতটা গুরুত্ব দিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম সাধারণ জনগণ ও অংশীজনদের মতামত নেওয়ার মধ্যে হয়নি।
শূন্য কার্বন নিঃসরণের ভিত্তি গড়ার মতো কাজ করার সুযোগ থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার সেই কাজে ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কি না, যা নিয়ে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারত! সেই সুযোগ কেন দেশের জনগণ হারাল, এই প্রশ্নের জবাব অন্তর্বর্তী সরকারকে দিতে হবে।
মানববন্ধনে টিআইবির ক্লিন এনার্জি প্রজেক্টের সহসমন্বয়ক আশনা ইসলাম একটি ধারণাপত্র উপস্থাপন করে কিছু সুপারিশ করেন। সুপারিশগুলো হচ্ছে— জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ধাপে ধাপে বন্ধ করা এবং জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বৃদ্ধি; খসড়া মহাপরিকল্পনা চূড়ান্তের আগে নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নেওয়া; ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ও ‘নেট-জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নীতি গ্রহণ; স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্প অনুমোদন ও চুক্তি স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা।
মানববন্ধনে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, কর্মজীবী নারী, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, মিডিয়া রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই), বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা সরকারের খসড়া মহাপরিকল্পনার নীতিগত ত্রুটি তুলে ধরেন এবং অবিলম্বে নীতি পরিবর্তনের দাবি জানান।
ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার যেন অংশীজনদের মতামত নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে এবং অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও টেকসই নীতি গ্রহণে সচেষ্ট হয়— মানববন্ধন থেকে এ দাবিও জানায় টিআইবি।
এফআর