প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৫ এএম (ভিজিট : ১৩৩)
অব্যবস্থাপনা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে জাবির খেলার মাঠ। ছবি : সময়ের আলো উদ্বোধনের আগেই অব্যবস্থাপনা ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আল বেরুনী হলের পেছনে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ-১। প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর ও উদ্বোধন এখনও সম্পন্ন না হলেও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ও অননুমোদিত ব্যবহারের কারণে মাঠের মাটি ও ঘাস নষ্ট হতে শুরু করেছে। প্রায় তিন লাখ বর্গফুট বা প্রায় ২০ বিঘা জায়গাজুড়ে নির্মিত এই মাঠে ব্যয় হয়েছে চার কোটি আট লাখ টাকা। ক্রিকেট ও ফুটবল- উভয় খেলার উপযোগী করে মাঠটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশেষ মানের ক্রিকেট পিচ তৈরির জন্য ভিন্ন ধরনের মাটি আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কিন্তু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই মাঠটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য- দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি আধুনিক খেলার মাঠ নির্মিত হলেও সুষ্ঠু সংরক্ষণ ও তদারকির অভাবে সেটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখনই কার্যকর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা না নিলে মাঠটি ভবিষ্যতে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, মাঠটি যেন একটি টেকসই ও মানসম্মত ক্রীড়া ভেন্যু হিসেবে গড়ে ওঠে, সে জন্য নিয়মিত তদারকি, পেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহির কোনো বিকল্প নেই।
মাঠটির বর্তমান অবস্থার বিষয়ে জাকসুর (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ) সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান বলেন, মাঠটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ঘাসের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে শারীরিক শিক্ষা বিভাগকে সম্পৃক্ত করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবির) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন জানান, প্রকল্পটির মোট বাজেট চার কোটি আট লাখ টাকা। ঘাস স্থাপনে তুলনামূলক বেশি ব্যয় এবং সার্বিক সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে মাঠটি উদ্বোধনের আগে সংরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি বকেয়া পরিশোধ ও বাজেটসংক্রান্ত নিশ্চয়তা না থাকায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াও স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশে মাঠটি ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি গ্রহণ না করা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরই থাকবে।
এদিকে, মাঠটির বর্তমান অবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সোহেল রানাকে আহ্বায়ক, শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক দেবব্রত পালকে সদস্য সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বেগম নাছরীন, উপপরিচালক মো. আজমল আমীন টুটুল ও বিসিবির মাঠ প্রস্তুতকারী খাইয়রুল কবীর খোকনকে সদস্য করা হয়েছে।
মাঠ পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য ও শারীরিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বেগম নাছরীন বলেন, মাঠের ক্ষয়ক্ষতি ও অননুমোদিত ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, বুধবার মাঠ পরিদর্শন করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর সার্বিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে। মাঠের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে শারীরিক শিক্ষা বিভাগে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সময়ের আলো/এনএ