দুর্নীতির মামলায় বরিশাল বিআরটিএ-র সাবেক সহকারী পরিচালক শাহ আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিনের আবেদন করেন। তবে বিচারক শেখ ফারুক হোসেন তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সন্ধ্যায় তাকে কারাগারে নেওয়ার সময় ছবি তুলতে গেলে এক সাংবাদিককে লাথি মারেন শাহ আলম। এ সময় ছবি তুলতে বাধা দেন তার স্বজনরাও। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এমডি শাহ আলম বিআরটিএর বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলায় সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে বরিশাল অফিসে ৩৪৪টি, ঝালকাঠিতে ৯৩৩টি এবং পিরোজপুরে ১০৮১টি বাস ও ট্রাকের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম জানান, অবৈধ যানবাহন রেজিস্ট্রেশনের অভিযোগে গত বছর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শাহ আলমের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। সোমবার একই মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পুনরায় জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বরিশাল বিআরটিএর সহকারী পরিচালক থাকাকালে শাহ আলম প্রায় আড়াই হাজার অবৈধ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন দিয়েছেন। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত আট বছরে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, শাহ আলম ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিআরটিএ এবং ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিআরটিএতে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি প্রায় ৯০০ থেকে এক হাজার অবৈধ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেন।
২০২২ সালে তিনি আবার বরিশাল বিআরটিএতে যোগ দেন। ওই বছরের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তিনি ২৫৫টি গাড়ির অবৈধ ও অসংগতিপূর্ণ রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন দেন। বিষয়টি প্রকাশ পেলে তার বিরুদ্ধে তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়।
তদন্ত চলাকালীনও অনিয়ম বন্ধ না করে ২০২২ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে আরও ৮৯টি অবৈধ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেন শাহ আলম। এসব গাড়ির মালিক ও ঠিকানা চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার হলেও আইন ও অফিস আদেশ অমান্য করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বরিশাল বিআরটিএ অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়।
/ইউএমএইচ