জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ক্যাম্পাস সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় একটি বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২ জন জাবি শিক্ষার্থীসহ মোট ৪ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ইসলামনগরের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় ঘটনাটি ঘটেছে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বলে ধারণা করা হলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা নয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইসলামনগরের ওই বাসায় দুই ভাই রাহাত ও রায়হান-এর মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন ঘরের ভিতরে অকটেন/পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে যান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল ইসলাম রনি এবং তার সঙ্গে আরও একজন। কিন্তু সেই সময়, দুই ভাইয়ের একজন লাইটার জ্বালালে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা চারজনই দগ্ধ হন।
দগ্ধরা হলেন-মো. সাইফুল ইসলাম রনি, জাবি নৃবিজ্ঞান বিভাগ; আব্দুস সোবহান রায়, জাবি নৃবিজ্ঞান বিভাগ; হাসিনুর এবং রাহাত।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ইসলামনগর এলাকার ওই বাসার দ্বিতীয় তলায় হঠাৎ বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গুরুতর আহত সাইফুল ইসলাম রনি এবং হাসিনুরকে রাতেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ ভর্তি করা হয়েছে। অপর দু’জনকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, রনির পিঠ, হাত এবং একটি চোখ আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাকসুর (জাবি ছাত্র সংসদ) জিএস মাজহারুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। এছাড়া জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনী মোবারক জানিয়েছেন, রনির শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের খণ্ডকালীন চিকিৎসক অমিতাভ দাস বলেন, গুরুতর দগ্ধ হয়ে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এছাড়া আরও দুজন দগ্ধ হয়ে সাভারে চিকিৎসা নিতে গেছেন। তিনি জানান, সাইফুল ইসলামের শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরে আলম সিদ্দিক বলেন, আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট-এ একজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত চলছে।
/ইউএমএইচ