জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ফজিলতুন্নেসা হলের রিডিং রুম দখল করে হল সংসদের অফিস রুম তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ফজিলতুন্নেসা হলে মোট ছয়টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কমন রুম, একটি জিমনেসিয়াম, একটি নামাজ রুম এবং বাকি দুটি রিডিং রুম। তবে, বর্তমানে হল প্রশাসন ও হল সংসদ যৌথভাবে ওই দুটি রিডিং রুমকে হল সংসদের অফিস হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কক্ষগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রিডিং রুম স্থায়ীভাবে নামাজ রুমের পাশে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নতুন জায়গায় ওয়াশরুম থেকে অনবরত পানি পড়ার শব্দ শোনা যায়, জায়গাও তুলনামূলকভাবে অনেক কম। সেখানে একসঙ্গে বসে পড়া প্রায় অসম্ভব হয়ে হবে। আগে যেখানে পর্যাপ্ত জায়গা, আলো, সকেট ও চার্জিং সুবিধা ছিল, এখন সেসবের অভাব দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও থিসিসের কাজের জন্য ইন্টারনেট অপরিহার্য। অথচ নতুন রিডিং রুমে ইন্টারনেট সংযোগ নেই। ভবিষ্যতে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হলেও জায়গার সংকট থেকেই যাবে বলে আশঙ্কা তাদের।
এ বিষয়ে হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সায়মা জাহান বলেন, রিডিং রুমের দুইটা রুম তালা মারার যৌক্তিকতা কোথায়? এই হলের স্ট্রাকচারই এমন যে পড়ার জায়গায় সারাদিন ঘণ্টা বাজতে থাকে। সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ঘণ্টা বাজে, উপর দিয়ে মানুষ হাঁটলে শব্দ শোনা যায়। এখন যে দুইটা ভালো রুম ছিল, সেগুলোও বন্ধ। শীত, শব্দ আর ভিড়ের মধ্যে পড়ে কীভাবে পড়াশোনা সম্ভব?
তিনি আরও বলেন, হল কী তৈরি করা হয়েছে জাকসুর কার্যক্রমের জন্য, নাকি শিক্ষার্থীদের সুন্দর পড়াশোনার পরিবেশ দেওয়ার জন্য? আমরা রিডিং রুমের একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা চাই।
জানতে চাইলে ফজিলাতুন্নেছা হলের ওয়ার্ডেন আফসানা হক বলেন, মাস্টার প্ল্যানে হল তৈরি করার সময় হলে কোনো রিডিং রুম রাখা হয়নি। কিন্তু এখন যেহেতু হল সংসদ হয়েছে, তাই তাদের দুটি রুম দেওয়া হয়েছে।
এফআর