মৌসুমী নাগ- দুই দশকের ক্যারিয়ারে অনেক নাটকে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। অভিনয়ে চাহিদা থাকলেও মাঝে লম্বা বিরতি নিয়ে ফেরেন গত বছরের প্রথম দিকে। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সিনেমা ‘চক্কর-৩০২’ দিয়ে নিজেকে আবারও প্রমাণ করেন। সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘আঁতকা’। এতে তার অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছে। নতুন এই কাজ ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে সময়ের আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি দেশের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে অরিজিনাল সিরিজ ‘আঁতকা’। এটি দর্শকদের জন্য চরকির নতুন বছরের প্রথম কনটেন্ট। রাবা খানের গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপে সিরিজটি নির্মাণ করেছেন আরাফাত মহসীন নিধি। গল্পকার ও নির্মাতা হিসেবে এটি তাদের প্রথম সিরিজ। ‘আঁতকা’র গল্প ও নিজের চরিত্র নিয়ে মৌসুমী নাগ বলেন, সিরিজটি পারিবারিক গল্পের, যা দর্শকের কাছে আপন মনে হবে।
যৌথ পরিবারের প্রতিদিনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, সাহস-ভয় নানা বিষয় নিয়ে এগিয়েছে এর কাহিনি। এখানে আমার চরিত্রটি খুবই সাধারণ কিন্তু দর্শকের কাছে অসাধারণ মনে হবে। গল্পে দেখা যাবে আমি রহমান পরিবারের মেয়ে। এই পরিবার সমাজে মর্যাদা নিয়ে চলে। আমাকে পরিবারের সবাই খুব ভালোবাসে। বিশেষ করে ভাতিজা-ভাতিজির প্রিয় ফুফু আমি।
সিরিজে নায়ক-নায়িকাসহ অনেক চরিত্রের মাঝে মৌসুমী নাগের উপস্থিতি কম হলেও সবার নজর কেড়েছে। নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। সিরিজটি থেকে দর্শক প্রতিক্রিয়া নিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, সুন্দর একটি গল্পে নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য ভালো প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। এখানে আমার উপস্থিতি খুব কম, তবু দর্শকের এত ভালো সাড়া পাব তা কখনো ভাবিনি। মনে হচ্ছে আমার সাধারণ চরিত্রটি নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ দর্শক, সিরিজটির পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে।
মৌসুমী নাগ বেছে বেছে কাজ করেন। তাই গত বছরের এপ্রিলে ‘চক্কর-৩০২’ সিনেমা মুক্তির পর নতুন কাজে দেখা যায়নি তাকে। সিরিজটিতে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘চক্কর-৩০২’-এর পর আমার কাছে একাধিক কাজের প্রস্তাব এসেছে কিন্তু ভালো না লাগায় সেগুলোতে অভিনয় করা সম্ভব হয়নি। ‘আঁতকা’ সিরিজের চিত্রনাট্যটি আমার কাছে অসাধারণ লেগেছিল। এমন একটি চরিত্রে অপেক্ষায় থাকলেও প্রথমে কাজটি করতে চাইনি।
মানিকগঞ্জ গিয়ে শুটিং করাটা কঠিন মনে হচ্ছিল। কারণ মেয়েটা ছোট। কিন্তু রাবা খান নাছোড়বান্দা। রাবা ও নিধিই আমাকে যুক্ত করেছে এই সিরিজে। গল্পটা লেখার সময় নাকি আমাকে ভেবেই চরিত্রটা করেছে রাবা। ‘চক্কর-৩০২’ সিনেমা দেখে পরিকল্পনা করেছিল আমার সঙ্গে একটা কাজ করবেই সে। রাবা ও নিধি আমাকে শুটিংয়ের জন্য সব ধরনের সুবিধা দিতে চাইল। ওর আগ্রহের কাছে আমি আর না বলতে পারিনি।
‘আঁতকা’ সিরিজে নবীন ও প্রবীণ শিল্পীদের সমন্বয় ঘটেছে। আবুল হায়াৎ, রোজি সিদ্দিকী, তুষার খানের মতো অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন এই প্রজন্মের আরশ খান, সুনেরাহ বিনতে কামালরা। এমন প্লটে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মৌসুমী নাগ বলেন, খুব উপভোগ করেছি। সবাই মিলে খুব মজা করেছি স্পটে। আসলে ভালো কিছু করতে গেলে নবীন ও প্রবীণ উভয়ের সম্পৃক্ততা জরুরি। এটা শুধু নাটক সিনেমার ক্ষেত্রে নয়, যেকোনো কাজেই এটি প্রযোজ্য।
অভিনয়ে বিরতি প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, প্রয়োজনের তাগিদেই বিরতি নিতে হয়েছে। আমার সন্তানরা ছোট, ওদের সময় দিতে হয়। তবে মানসম্মত গল্প ও চরিত্র হলে অভিনয়ে আবার নিয়মিত হতে চাই। প্রয়োজনে বসে থাকব তবু মানহীন কাজে নিজেকে জড়াতে চাই না। কোনো কাজের ফলাফল ভালো না হলে, তার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়াই উত্তম। প্রথম থেকেই আমি কম কাজ করেছি। তবে যেগুলো করেছি দর্শক মনে রেখেছেন। আমার সৌভাগ্য দর্শকদের প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি।
দর্শকদের ভালোবাসার কমতি না থাকলেও কয়েক বছর ধরে অভিনয়ে অনিয়মিত মৌসুমী। এক বিরতি ভেঙে অভিনয়ে ফিরে নেন আরেক বিরতি। বাস্তবতার কারণে এমনটি ঘটলেও এখন থেকে নিয়মিত কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। নতুন কাজের খবর প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, বেশ কয়েকটি নতুন কাজের প্রস্তাব পেয়েছি। এর মধ্য থেকে একটি পছন্দ হয়েছে। ব্যাটে-বলে মিলে গেলে আশা করছি শিগগিরই কাজটি শুরু করব। তবে এই বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। নাটক, সিনেমা না ওটিটির কনটেন্ট তা সময় হলেই প্রকাশ করব। আপাতত এটি চমক হয়েই থাক।
২০০৬ সালে ‘সুরে আঁকা ছবি’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে শোবিজে অভিষেক ঘটে মৌসুমী নাগের। এরপর শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। নাটকের পাশাপাশি তিনটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমা ‘রান আউট’ দিয়ে জনপ্রিয়তা পান। এতে তার বিপরীতে ছিলেন আব্দুন নূর সজল। এর পর ‘প্রার্থনা’ এবং সর্বশেষ গত বছরে ‘চক্কর-৩০২’ সিনেমায় দেখা গেছে তাকে।
দুই দশকের ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ক্যারিয়ারের শুরু থেকে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। মাঝে অভিনয় করিনি। তখন অনেকে আমাকে ভুলেই যাচ্ছিলেন। আট বছর পরে আবার যখন ফিরলাম, তখন দর্শকরা বলা শুরু করলেন, অনেক দিন পরে আপনাকে দেখলাম। আবার নতুনরা নতুন করে চিনছেন। তারা বলছেন, আপনার অভিনয় অনেক ভালো হয়েছে। আপনাকে আরও দেখতে চাই। দর্শকদের এই ভালোবাসা, এই সম্মান আমাকে আপ্লুত করে। ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। দর্শকদের ভালোবাসা পাচ্ছি, এটা সেরা প্রাপ্তি, আশীর্বাদ।