নোয়াখালী-২ আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে বিএনপির ১৮ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জানা গেছে, তারা বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো ও সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তারা বলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল করিব রিজভীর সই করা চিঠিতে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা ও সেনবাগ পৌর বিএনপির ১৮ নেতাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, সেনবাগ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, ড. সৈয়দ নজরুল ইসলাম ফারুক, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত লিটন, মমিন উল্লাহ চেয়ারম্যান, মির্জা মো. সোলাই মান, মোয়াজ্জেম হোসেন সেলিম, গোলাম হোসেন খোন্দকার, উপজেলা বিএনপির সদস্য ওবায়দুল হক চেয়ারম্যান, আবুল কালাম আজাদ, নুরুজ্জামান চৌধুরী, আবু জাহের চৌধুরী জাফর, শাহেদুল করিম মারুফ, মাস্টার দলিলুর রহমান এবং সেনবাগ পৌর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন বাবলু, রেজাউল হক হেলাল, তাজুল ইসলাম রতন, পৌর বিএনপির সদস্য মহিন উদ্দিন কমিশনার ও শহীদ উল্যা হেলাল।
আরও পড়ুন
বহিষ্কারাদেশ পাওয়া সেনবাগ পৌর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন বাবলু বলেন, দল মনোনয়নে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করছে। তারা আমাদের সবাইকে বহিষ্কার করলেও আমরা এবার কাজী মো. মফিজুর রহমানকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে সংসদে পাঠাবো ইনশাআল্লাহ।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি এ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবেদিন ফারুকের বিরোধিতা করায় সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সোলেমান রাজু ও ওমর ফারুক শাকিল, সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন এবং সেনবাগ পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ওয়ালিদ আদনানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি বীজবাগ সুলতান মাহমুদ ডিগ্রি কলেজের সভাপতি তানভীর তারেক জয়ের পদ স্থগিত ও কানকিরহাট ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সাবেক চিফ হুইফ জয়নুল আবদিন ফারুক। এ আসনে কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত ব্যবসায়ী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান।
এ আসনে আরও তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার (শাপলা কলি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মো. শাহাদাৎ হোসেন (লাঙ্গল)।
এএডি/