জেনারেশন জি (জেন-জি)-এর চিন্তা, প্রয়োজন ও আত্মত্যাগকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন করা সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. কে এম কবিরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আইএসআরসি ট্রাস্ট আয়োজিত ‘বাংলাদেশের মানুষ কেমন নির্বাচনি ইশতেহার চায়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কে এম কবিরুল ইসলাম বলেন, জেন-জির আত্মত্যাগের কারণেই আজ দেশের নির্বাচনি ইশতেহার কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আলোচনা সম্ভব হচ্ছে। নতুন প্রজন্ম ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থেকেও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন, নাগরিক অধিকার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে। তাই দেশের আপামর জনতার সংস্কার আকাঙ্ক্ষা ও নতুন প্রজন্মের চাহিদা সব রাজনৈতিক দলকে তাদের ইশতেহারে প্রতিফলিত করতে হবে।
কবিরুল ইসলাম আরও বলেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ, সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ, নাগরিক ও মানবিক অধিকার রক্ষা- এসব বিষয় ইশতেহারে স্পষ্টভাবে থাকতে হবে। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন ও যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা না গেলে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। যুব সমাজের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করলেই নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। তিনি বলেন, একটি জাতীয় নির্বাচনী ইশতেহার কেবল রাজনৈতিক দলিল নয়; এটি মূলত একটি সভ্যতার ঘোষণা। ইশতেহার বলে দেয় রাষ্ট্র কী ধরনের মানুষ গড়তে চায় এবং কোন মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে এগোতে চায়। কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়ননির্ভর ইশতেহার নাগরিককে ভোক্তা বা শ্রমিক হিসেবে বিবেচনা করে, সভ্যতার উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়। এ কারণে বাঙালি মুসলিম পরিচয় ও সংস্কৃতিকে জাতীয় নির্বাচনি ইশতেহারে যুক্ত করা সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র কোন পরিচয় ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অগ্রসর হতে চায়; এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তরে বাঙালি মুসলমান পরিচয় ও সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অথচ বাস্তবে জাতীয় নির্বাচনি ইশতেহারগুলোতে এই পরিচয় প্রায় অনুপস্থিত। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ একই সঙ্গে বাঙালি ও মুসলিম। এটি কোনো কৃত্রিম পরিচয় নয়; বরং হাজার বছরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অভিজ্ঞতার ফল। বাংলা ভাষা ও লোকজ সংস্কৃতি এবং ইসলামের নৈতিকতা ও সাম্যের দর্শনের সংমিশ্রণেই বাঙালি মুসলিম সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। তাই বাঙালি ও মুসলিম পরিচয়কে পরস্পরবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
গোলটেবিল আলোচনায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও ব্যবসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ. কে.এম ওয়ারেসুল করিম বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেক দল তা ভুলে যায়। নির্বাচনের আগেই নারী হেনস্তা ও হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়া নির্বাচনের জন্য অশনিসংকেত উল্লেখ করে তিনি রাজনৈতিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পলিসি এক্সপার্ট দেওয়ান এ এইচ আলমগীর বলেন, অতিদারিদ্র্য দূরীকরণে কী ধরনের কার্যক্রম নেওয়া হবে, তা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি যুবসমাজকে কর্মদক্ষ করে তোলার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. নুরুল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান, হনাব নাজমুল হোসাইন, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ এবং পিএইচডি গবেষক সুমাইয়া রাবেয়া প্রমুখ।
সময়ের আলো/এসকে/