বরিশালে প্রেসপাড়ায় সুনসান নীরবতা

মোফাজ্জেল হোসাইন, বরিশাল

ঘনিয়ে এসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনি প্রচারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় পোস্টার, লিফলেট। কিন্তু এ বছর নির্বাচনি প্রচারে বড়

2026-01-30T05:44:06+00:00
2026-01-30T05:44:06+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
বরিশালে প্রেসপাড়ায় সুনসান নীরবতা
মোফাজ্জেল হোসাইন, বরিশাল
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৪ এএম 
বরিশাল নগরীর প্রেসপাড়ায় আগে প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের ভিড় লেগেই থাকত। কিন্তু এবার কর্মব্যস্ততা নেই বললেই চলে। ছবি : সময়ের আলো
ঘনিয়ে এসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনি প্রচারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় পোস্টার, লিফলেট। কিন্তু এ বছর নির্বাচনি প্রচারে বড় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন। যার ফলে প্রার্থীরা পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। এ কারণে এবার প্রার্থীরা শুধু ভোটারদের কাছে লিফলেট বিতরণ করছেন। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বরিশালের প্রেসপাড়ায়। কাজ না থাকায় অলস সময় পার করতে হচ্ছে কর্মচারীদের। শুধু লিফলেট ছাপিয়ে ভালো কিছু আশা করছেন না প্রেস মালিকরা। 

অথচ বিগত বছরগুলোতে বরিশাল নগরীর ফকিরবাড়ি, কালীবাড়ি রোড এলাকার প্রেসপাড়ায় প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের ভিড় লেগেই থাকত। একটি কাজ শেষ করতে না করতেই আরেকটি কাজ এসে হাজির হতো। সারা দিন ব্যস্ত সময় পার করত এখানকার প্রেসের মালিক, শ্রমিক ও কর্মচারীরা। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর অল্প কয়েক দিন বাকি থাকলেও কর্মব্যস্ততা নেই ছাপাখানাগুলোতে। এতে বিপাকে পড়েছেন প্রেসের মালিক ও শ্রমিকরা। কাজের চাপ নেই তাই আয়ও কমেছে শ্রমিকদের।

এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে বরিশাল মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম বলেন, বরিশাল বিভাগীয় শহরে ৪০টির মতো প্রেস আছে। এর মধ্যে ২৫-২৬টি কাজকর্ম করছে। নির্বাচনের সময়ে আমাদের একটা আশা-আকাক্সক্ষা থাকে। এ বছর পোস্টার না থাকায় আমরা বঞ্চিত। প্রেস মালিকদের ব্যবসার অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। আশানুরূপ কাজ আসছে না বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন বরিশাল মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম।

কথা হয় বরিশাল মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হোসেনের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করতে পারবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাই পোস্টার ছাপানোর কাজ বন্ধ আছে। শুধু লিফলেট ছাপানোর কাজ আছে, তার পরিমাণও ততটা বেশি না। 

বরিশাল মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হোসেন আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অর্ডার পাইনি। দুয়েক দিনের মধ্যে কিছু অর্ডার আসার কথা রয়েছে। তাও তুলনামূলক অনেক কম। নির্বাচনের সময় আগে দম ফেলার ফুরসত মিলত না। অথচ এবার অন্যান্য ছাপার কাজের কিছুটা ব্যস্ততা থাকলেও নির্বাচনের কাজের কোনো ব্যস্ততাই নেই। সবাই নির্বাচনের আশায় থাকলেও এবার আমরা চরমভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে।

সরেজমিন কথা হয় রাতুল নামে এক প্রেস শ্রমিকের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, আগে নির্বাচনে কাজের চাপ বেশি থাকত। এখন কাজের চাপ নেই বললেই চলে। এখন এমনি যে কাজগুলো আছে সেগুলো করি। নির্বাচনের কাজ থাকলে আমাদের ওভারটাইম কাজ করতে হতো, তখন ইনকামও বেশি হত। সুজন নামে আরও একজন বলেন, এই সময়ে আমাদের নির্বাচনের কাজের চাপ বেশি থাকত আগে। কিন্তু এখন তা নেই। আগে যে কাজ ছিল সেগুলো এখনও চলছে।

বরিশাল নগরীতে ৩৫ থেকে ৪০টির মতো প্রিন্টিং প্রেস রয়েছে যার মধ্যে বেশিরভাগ প্রেসেই সুনসান নীরবতা দেখা গেছে। প্রেস মালিকরা বলছেন, মুদ্রণ শিল্প টিকিয়ে রাখাই তাদের জন্য দায় হয়ে গেছে। নির্বাচনে পোস্টার সবচেয়ে বেশি ছাপানোর অর্ডার পেলেও এবার তা হচ্ছে না। সীমিত লিফলেট নিয়ে হতাশ তারা।

এ বিষয়ে প্রেস মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান অবস্থায় আমাদের টিকে থাকা দায় হয়ে গেছে। পাঁচ বছর পরপর একটা নির্বাচন আসত। নির্বাচনের সময়ে আমরা অনেক কাজকর্ম করতাম। অর্থনৈতিকভাবে আমরা অনেক এগিয়ে যেতাম। এখন শুধু সীমিত লিফলেট ছাপিয়ে আমাদের চলা মুশকিল। বর্তমানে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো থাকার কথা থাকলেও এখন অনেক খারাপ। তা ছাড়া বরিশালের যে আসনগুলো রয়েছে অনেকেই ঢাকা থেকে কাজ করে আনেন।

আরেক প্রেস মালিক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রেস মালিকরা মুখিয়ে ছিলাম এই নির্বাচনে ভালো কাজ পাওয়ার আশায়। পোস্টার বাদ করে দেওয়ায় লিফলেটও তেমন হচ্ছে না। বেশিরভাগই ঢাকা থেকে করা হয়। প্রচার শুরু হয়ে গেছে অথচ আমাদের কোনো কাজ নেই। আমরা অলস সময় কাটাচ্ছি।

প্রেস মালিক অম্লান সাহা বলেন, দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে কাজ করছি। এবার এখনও তেমন কোনো কাজ পাইনি। নামমাত্র একটি সৌজন্যের লিফলেটের কাজ পেয়েছি। তার সংখ্যাও খুব সীমিত। কাজ করে যে বেশি টাকা পাব সেই উপায় নেই। এবার নির্বাচনে কোনো কাজই নেই যা অস্বাভাবিক। আবার অন্য যে কাজগুলো রয়েছে তাও থেমে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরিশালের ৬টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মোট ৩৬ জন প্রার্থী। 

এরই মধ্যে প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু বরিশালের প্রেসগুলোতে নেই কর্মব্যস্ততা। লিফলেট ছাপানোর কিছু কাজ থাকলেও নেই কোনো তোড়জোড়। কাজ না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছে বরিশাল মুদ্রণ শিল্প সমিতি। নির্বাচনি মৌসুমে কাজ না থাকায় প্রেস মালিকরা ভালো নেই বলছেন তারা।

এফআর


  বিষয়:   নির্বাচন  বরিশাল  প্রেসপাড়া  সুনসান  নীরবতা 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: