আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মেহেরপুরে নতুন ভোটারদের মাঝে দেখা গেছে উৎসাহ ও উদ্দীপনা। জীবনের প্রথম ভোটটি যোগ্য সৎ মাটি ও মানুষের জন্য নিবেদিত প্রার্থীকেই দিবেন বলে জানান এ তরুণরা। তবে গণভোট কি এবং কেন?— এ নিয়ে নতুন ও পুরাতন ভোটারদের কেউই মন্তব্য করতে পারেননি। এমনকি গণভোট সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোন জনপ্রতিনিধি বা সরকারিভাবে জানানো হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
এদিকে প্রশাসন বলছে, গণভোট সম্পর্কে নানামুখী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার তিনটি উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮০ জন। এদের মধ্যে নতুন ভোটার ৩১ হাজার ৭১৪ ও পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা ছয় হাজার ৬৫৪ জন।
মোট ২১৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সম্ভাব্য ৭২টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা চিহ্নিত করেছেন এবং ওই সমস্ত এলাকাতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। চলছে মহড়া। এছাড়াও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ভোটের গাড়িতে গণভোটের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন ভোটারদের সঙ্গে আলাপ হয় এ প্রতিবেদকের। আলাপকালে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন ভোটাররা।
গাংনীর কুঞ্জনগরের ইব্রাহিমের ছেলে জিহাদ ও আতিয়ারের ছেলে শাহিন এবার নতুন ভোটার। তারা জানান, সৎ যোগ্য ও মানুষের কল্যাণে যিনি কাজ করবেন তাকে জীবনের প্রথম ভোটটি দেবেন তারা। কোন দুর্নীতিবাজ লোককে ভোট দিবেন না।
তারা আরও জানান, গণভোটের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। গ্রামাঞ্চলে এ সংক্রান্ত কোন প্রচারণাও তাদের চোখে পড়েনি।
কথা হয় মেহেরপুর ও গাংনী উপজেলার কয়েকটি বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ নতুন ভোটারদের সঙ্গে।
তারাও জানান, এবার যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে যাকে ভালো মনে হবে তাকেই ভোট দিবেন। গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ শুনেছেন কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত কোন কিছু জানান না তারা। এমনকি গণভোটের ইতিবাচক বা নেতিবাচক দিক কি? সে ব্যাপারেও তাদের কেউ এখন পর্যন্ত অবহিত করেনি।
নতুন ভোটার সায়েম জানান, রাজনৈতিক নেতারা বেশ কিছুদিন যাবৎ ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে জীবনের প্রথম ভোট যোগ্য প্রার্থীকেই প্রদান করব।
তিনি আরও জানান, গণভোট সম্পর্কে অল্প জানা থাকলেও বিস্তারিত সুবিধা বা অসুবিধার বিষয়ে আমার ধারণা নেই। এসময় ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা বা অগ্রিম সিল মারা রুখতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর জেলা সভাপতি সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, ভোট দেয়ার পরিবেশ ও পরিস্থিতি থাকলে ভোটারগণ ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবে। কিন্তু গণভোটের বিষয়টি আসলে সাধারণ জনগণের জন্য বোধগম্য নয়। যারা বোঝে তারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের সব বিষয়ে একমত নাও হতে পারেন। তবে তৃণমূল ভোটাররা এখনও বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে অবগত নন। তাই গ্রামাঞ্চলে প্রচার-প্রচারণা জরুরি।
মেহেরপুর পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায় জানান, ইতোমধ্যে জেলার দুটি আসনের ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাছাড়া নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন ও টহল জোরদার করে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারে সে ব্যাপারে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির জানান, প্রশাসন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধ পরিকর। এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক কোন চাপ নেই। গণভোটের বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এফআর