চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাট মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জমির মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে নারী চিকিৎসকসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও রোগীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে কেরানীহাট মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে কেরানীহাট মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, ২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি ১৩০ জন শেয়ারহোল্ডারের সমন্বয়ে কেরানীহাট মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাসপাতালটি সুনামের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। জমির মালিকপক্ষের সঙ্গে ১০ বছরের একটি চুক্তির মেয়াদ শেষে তা নবায়নের প্রক্রিয়া চলছিল। তবে জমির মালিক বদিউল আলম অসুস্থ থাকায় চুক্তি নবায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের লক্ষ্যে কেরানীহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের শরণাপন্ন হলে জমির মালিকের ছেলে সাইফুল ইসলাম, রবিউল আলম ও মোহাম্মদ শাহেদ উপস্থিত থেকেও সমবায় সমিতির সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতকানিয়া ক্যাম্পে যোগাযোগ করে। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গত ১১ জানুয়ারি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারিত ছিল ২৫ জানুয়ারি। তবে হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম বাবরের নির্বাচনি ব্যস্ততার কারণে ২৪ জানুয়ারি বৈঠকের সময় পরিবর্তনের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়।
হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক আরও অভিযোগ করে বলেন, ওই আবেদনের সিদ্ধান্ত জানার আগেই বুধবার ভোর রাতে জমির মালিক বদিউল আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম, রবিউল আলম, মোহাম্মদ শাহেদ ও ইমনসহ কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় লোকজন নিয়ে হাসপাতালের একমাত্র প্রবেশপথ সিড়ির সম্মুখে ইট ও বালু ফেলে চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এতে হাসপাতালে অবস্থানরত নারী চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অভিযুক্তরা পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে ইট ও বালু সরিয়ে নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজিজুল হক প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
হাসপাতালের প্রবেশপথে ইট ও বালু ফেলে হাসপাতালের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মালিকপক্ষের রবিউল আলম বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে করা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কাজ করতে এসব ইট ও বালু আনা হয়েছে। তবে তা হাসপাতালের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে রাখার জন্য নয় বলে জানান তিনি।
এএডি/