আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড সাড়ে পাঁচ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রমের পর সোনার দামে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। টানা দুই দিনের ব্যবধানে দেশে ভরিপ্রতি সোনার দাম কমেছে ৩০ হাজার ৪০০ টাকা।
দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সর্বশেষ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে সোনার ভরিতে ১৫ হাজার ৭৬২ টাকা কমিয়ে নতুন দাম প্রকাশ করে। এর আগে, গতকাল শুক্রবার সকালে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা কমিয়ে সোনার দাম প্রকাশ করে বাজুস।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তার আগে, গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের উপরে, যা ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেকর্ড দাম ছোঁয়ার পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্সে কমেছে ৬৬০ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ প্রায় ৮০ হাজার ৫০০ টাকার বেশি। এত অল্প সময়ে এত বড় পতন সোনার বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে টানাপোড়েন বাড়তে থাকা একইসঙ্গে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বেড়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে, রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর গত দুই দিন ধরে দরপতন শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নানা অনিশ্চয়তায় মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে, ফলে দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। তবে, স্বল্প সময়ে ভালো লাভ পাওয়ায় এখন অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হতে থাকা ও সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকার ইঙ্গিত সোনার দামে চাপ তৈরি করছে। এর সঙ্গে বাজারে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধনও যুক্ত হয়ে সাম্প্রতিক দরপতনের কারণ হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে হঠাৎ সোনার বড় দরপতনের প্রভাব দ্রুতই দেশের বাজারে পড়েছে। ফলে, স্বল্প সময়ের মধ্যেই সোনার দামে বড় ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
বাজুসের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিপ্রতি ২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিপ্রতি ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা।
রুপার দামও নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন করে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।
সময়ের আলো/এনএ