রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে লস্করহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তা কার্পেটিংয়ের কাজে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডির নির্ধারিত মান ও পদ্ধতি উপেক্ষা করে কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদরুল ইসলাম বলেন, রাস্তায় খোয়ার পরিমাণ কিছুটা কম দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে তিনি দাবি করেন, রাস্তার কাজ ভালোভাবেই করা হচ্ছে। তার কথায়, মান বজায় রেখেই কাজ চলছে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাদ্দকৃত বাজেটের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে হচ্ছে। গোদাগাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদরুল ইসলাম আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে স্থানীয়দেরও দায় রয়েছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে ইটভাটার ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে। এদিকে কাজের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদারের নাম জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী তা প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। এতে পুরো প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার রাস্তায় তরল পিচ ছিটিয়ে দেন। পরে পিচ শুকানোর অজুহাতে এর ওপর বালু দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্পেটিং শেষ না করে কয়েক দিন বিরতি দিয়ে পুনরায় কার্পেট বিছানো হয়। এতে পিচ ও কার্পেটের মধ্যে প্রয়োজনীয় বন্ধন তৈরি হয়নি, যা কাজের মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাস্তার নিচে নতুন করে কোনো খোয়া বা পাথরের বেজ ব্যবহার না করেই আগের পুরোনো ও দুর্বল খোয়ার ওপর কাজ চালানো হচ্ছে।
কেবল কিছু স্থানে দায়সারাভাবে খোয়া দিয়ে লেভেল করা হয়েছে। ফলে পুরো রাস্তায় ভিত্তির মান সমান নয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা বসে যাওয়া, ফাটল ও কার্পেট উঠে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া কার্পেটিংয়ের সময় বিটুমেন বা তেলের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত অনুপাতে তেল ব্যবহার না করায় কার্পেট খোয়ার সঙ্গে ঠিকভাবে আটকে থাকছে না। এতে কয়েক মাস বা একটি বর্ষা মৌসুম পার না হতেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা বলছেন, বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, এই রাস্তা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত। প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে থাকে। নিম্নমানের কাজ বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, কাজের মান যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনে পুরো রাস্তা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সময়ের আলো/কেএইচও