দেশের অন্যতম গুণী অভিনেতা আবুল হায়াত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের ছোটগল্প ‘সখিনা’ অবলম্বনে নির্মাণ করলেন আসছে ঈদুল ফিতরের বিশেষ নাটক। গল্পের নামেই নির্মিত এই নাটকটিতে নামভূমিকায় অভিনয় করেছেন উপস্থাপক ও অভিনেত্রী মৌসুমী মৌ। নাটকটিতে মৌয়ের সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন শ্যামল মাওলা, নরেশ ভূঁইয়া, শিরিন আহমেদসহ আরও অনেকে। বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইঞ্জিনিয়ার বদরুল হাসান খান। সম্প্রতি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের একটি রিসোর্টে নাটকটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে।
নাটকের গল্প প্রসঙ্গে মৌসুমী মৌ বলেন, এটি একটি গ্রামীণ পটভূমির গল্প, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র সখিনা। তার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা, তার ভবিষ্যৎ জটিল করে তোলে। সেই দুর্ঘটনার কারণেই সখিনার বিয়ে দিতে গিয়ে তার বাবাকে নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। দুই বছর পর অভিনয়ে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সখিনার মাধ্যমে দীর্ঘ দুই বছর পর আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম।
কাজটি আমার জন্য বিশেষ ছিল, কারণ গল্পটি রাবেয়া খাতুনের আর নির্দেশনায় আবুল হায়াত। চরিত্রটিতে ভাষাগত কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে আবুল হায়াতের সঙ্গে কাজের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো- তিনি প্রতিটি দৃশ্য নিজে অভিনয় করে দেখান। এতে চরিত্র বোঝা অনেক সহজ হয়ে যায়।
আবুল হায়াতের নির্দেশনায় কাজ করা প্রসঙ্গে মৌ বলেন, কিংবদন্তি আবুল হায়াত স্যারের নির্দেশনা ও চিত্রনাট্যে তৃতীয়বারের মতো অভিনয় করার সুযোগ হলো আমার। শ্রদ্ধেয় রাবেয়া খাতুনের ছোটগল্প ‘সখিনা’ অবলম্বনে নির্মিত রোজার ঈদের নাটকে নামভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য বড় প্রাপ্তি। তাদের সঙ্গে কাজ করা মানে কেবল কাজ নয়, একটা আনন্দভ্রমণ।
সখিনা চরিত্রে মৌসুমী মৌকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আবুল হায়াত বলেন, মৌ মূলত উপস্থাপক। অভিনয় কম করলেও যখন করে, নিজের সেরাটা দেয়। আমি মনে করেছি, চরিত্রটির জন্য সে উপযুক্ত। আগেও তার সঙ্গে কাজ করেছি, শিডিউলও মিলে গেছে। সব মিলিয়েই নির্বাচনটা সহজ হয়েছে। এদিকে আগামী একুশে বইমেলায় আবুল হায়াতের তিনটি বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এগুলো হলো- এলোমেলো ভাবনায় আশিতে আসিলাম, ঘোর এবং প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন ও তার যৌথ বই ‘যুগলবন্দি’।
সময়ের আলো/কেএইচও