ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাজ্জাক সেলিম ঢাকা যাত্রাবাড়ী থানায় জুলাই-আগস্টের হত্যা মামলার আসামি। ওই আসনে তিনি মোটোরসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।
এ মামলায় সাবেক প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৩৮৫ জন নামধারী আসামি রয়েছে। এর মধ্যে রাজ্জাক সেলিম ২২৩তম আসামি। সবুজবাগ থানার মীম আক্তার আখি (২৮) নামে এক নারী বাদী হয়ে মামলাটি (নম্বর : ৪৫,তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৫)। মামলাটি চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর হিসেবে যাত্রাবাড়ি থানায় রেকর্ড করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে যাত্রাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ হাসান জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হবার পর ঝালকাঠিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে জুলাই আন্দোলনের মামলায় আসামি হয়েও কিভাবে রাজ্জাক সেলিম নির্বাচন করছেন? সেলিম তার হলফনামায় কেনো এ তথ্য গোপন করেছেন?
বিগত সময়ে দলীয় সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে সবশেষ ২০২৪ সালে সহসভাপতি পদে থেকেই উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়। এ সময় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে রাজ্জাক সেলিমের সমর্থকদের বিরোধে মামলার পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের যাচাই বাছাইয়ে সেলিমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। এরপর তিনি আপিল কমিশনের মাধ্যমে আবার মনোনয়ন ফিরে পান। গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের সময় তার পক্ষে স্ত্রী নিলা রাজ্জাক মনোনয়ন দাখিল করেন। এ সময় তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে থাকা দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহ হওয়ায় ডিবি পুলিশ আটক করে থানায় সোপর্দ করে। তার হলো সাদাফ হোসেন (৩৫) ও মাকসুদুর রহমান (৪৩)। এদের দুজনকেই ঝালকাঠি সদর থানার বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সাদাফ হোসেন জানায়, তিনি রাজ্জাক সেলিমের ভায়রা ছেলে এবং মাকসুদুর রহমান ভাগ্নে জামাই। তারা দুই জনই ঢাকার বাসিন্দা।
সংসদ নির্বাচনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচনি এলাকায় প্রচার প্রচারণা শুরু করলেও তিনি এখন পর্যন্ত ঝালকাঠি পৌরসভা এলাকায় কোনো গণসংযোগ করেনি। তবে পৌর মিনি পার্ক ও গাবখান ব্রিজের পূর্বঢালে তার দুটি রঙ্গিন (পিভিসি) বিলবোর্ড দেখা গেছে। এ ধরনের বিলবোর্ড আচরণ বিধির লঙ্ঘন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে রাজ্জাক সেলিম জানান, ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় পর্যন্ত এ ধরনের কোনো মামলার তথ্য আমার জানা ছিল না। যে কারণে হলফনামা প্রদানের সময় পর্যন্ত এই মামলার বিষয় কোনো তথ্য উল্লেখের প্রশ্ন ওঠেনি। এখন যেহেতু একটি মামলার বিষয় আলোচনা হচ্ছে তাই আমি নিশ্চিত হওয়ার জন্য খোঁজ খবর নিচ্ছি।
ঝালকাঠি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন জানান, মামলার বিষয়টি আমরা গণমাধ্যম থেকেই শুনেছি, খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এসকে/জোআই/