দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে এনে এক ছাতার নিচে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে চট্টগ্রাম কলেজ মিলনায়তনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা আয়োজনই এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো ধরনের বৈষম্য রাখা হবে না। বর্তমান প্রজন্মকে দক্ষ ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।
পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ এবং কিছু ক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের নিয়োগও পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি এখতিয়ার না থাকায় এ ব্যবস্থা 'এক দেশের ভেতরে আরেক দেশ'।
শিক্ষার মানের উন্নতি প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষায় যদি আমি সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারি, তাহলেই সবাই একত্রিত হবো। কিছু মানুষের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে অনেক ভালো উদ্যোগও ব্যাহত হয়। তাই সবাইকে নেতিবাচক মনোভাব পরিহার করে পজিটিভ মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষা কেন্দ্র সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার প্রতি চারটি ইউনিয়নের জন্য একটি পৃথক পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করবে।
মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব শিক্ষা বোর্ডের খাতা র্যান্ডমলি যাচাই করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সব বোর্ডের খাতা আমরা র্যান্ডমলি চেক করে দেখবো, কেউ কম বা বেশি নম্বর দিয়ে দিলো কিনা।
প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই চক্র ভাঙতে এবং শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একযোগে কাজ করছে। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে আমি নিজে প্রেসে গিয়ে পাহারা দিয়েছি এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি।
শিক্ষার হার বাড়লেও মান না বাড়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর প্রভাব সমাজে নেতিবাচকভাবে পড়ছে। এর ফলে কিশোর গ্যাং, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বেশি সময় লাগার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেখুন বাংলাদেশে ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়তে ১০ বছর লাগে, ৬ বছরে ভর্তি হয়। তো কত বছর হলো? ১৬ বছর। এসময়ে পড়াশোনা শেষ হয় না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনার টুয়েলভ গ্রেড অব এডুকেশন হবে ১২ প্লাস ৬, কত? ১৮। আর আমরা করছি কত? ২০।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি স্টুডেন্টের কাছ থেকে আমরা দুটি বছর করে নিয়ে নিচ্ছি। এখন অ্যাপ্রক্সিমেটলি...২০ লাখস, টু মিলিয়ন। ২০ লাখস স্টুডেন্ট অ্যাপেয়ার্ড ইন এসএসসি এক্সাম, অ্যাপ্রক্সিমেটলি এসএসসি অ্যান্ড সমমানের। আর নিয়ারলি...২০ লাখস যায় এইচএসসি অ্যান্ড সমমানের। তাহলে ৪০ লাখস স্টুডেন্ট। তাহলে আমরা এক বছর করে সময় নষ্ট করলে ৪০ লাখস ইয়ার্স আমরা জাতির জীবনে পিছিয়ে গেলাম, অ্যাম আই রাইট?
পরীক্ষার এক বছর আগে রুটিন প্রকাশ করা হবে জানিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, এক বছর আগে, দেড় বছর আগে রুটিন দিয়ে দেওয়া যায় না পরীক্ষার? দিয়েছি আমি। অলরেডি আমি ’২৭-এ এসএসসি কবে হবে, ’২৭-এ এইচএসসি কবে হবে, সেটা আমি দিয়ে দিয়েছি।
ওয়ান ইয়ার এহেড আমি দিয়ে দিয়েছি, লেট দেম প্রিপেয়ার। অ্যাট দ্যা সেম টাইম, আমরা বেজলাইন ধরেছি ২০২৭-এর এসএসসি, তারপরের থেকে আমরা সিনক্রোনাইজ করব।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশনগুলোও আমরা নিয়ে আসব এবং ফোর ইয়ার্স ইউনিভার্সিটি হ্যাজ টু বি ফিনিশড উইদিন ফোর ইয়ার্স। হোয়াই নট? ইউনিভার্সিটি কি আমাদের বাইরে? ইউনিভার্সিটি ভিসি কি আমরা বানাইনি? ইউনিভার্সিটি ভিসির সেই ই খাতায় কি আমাদের প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করেনি? তাহলে তাদেরও উইদিন ফোর ইয়ার্স বেরিয়ে আসতে হবে। এভাবে করে আমাদের দেশের শিক্ষার পরিবর্তন আনতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নাই। সিলেবাস-কারিকুলাম আপডেট করতেই হবে।
অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/আতা