বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের একটি কর্দমাক্ত খানা খন্দে ভরা রাস্তার কারণে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অথচ, রাস্তাটি সংস্কার কিংবা নির্মাণে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাবগাছিয়া গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘ বছর ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। ইট সলিংয়ের রাস্তা হলেও এখন আর ইট নেই, আছে শুধু খানাখন্দ। এ ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ২০৭ নম্বর গাবগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪২ নম্বর বলইবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৯ নম্বর উত্তর বলইবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এ রাস্তায় চলাচলের সময় প্রায়ই অনেক শিক্ষার্থী পা পিছলে পড়ে কর্দমাক্ত হয়, ভিজে যায়। যার কারণে তাদেরকে পুনরায় বাড়ি ফিরে যেতে হয়। এলাকার শত শত জনসাধারণও একই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে এ রাস্তা দিয়ে যানবাহনসহ জনসাধারণের চলাচলের উপায় থাকে না। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বলইবুনিয়া, বুরুজবাড়িয়া, শহীদ মার্কেট, পুটিখালী, জোকা, দৈবজ্ঞহাটী বাজারে যেতে প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগে পোহাতে হয়।
শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম, ইয়াসিন শেখ, জেরিন আক্তার ও আয়শা সিদ্দিকা জানায়, ঝুঁকির কারণে বৃষ্টির সময় তাদের ক্লাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় অভিভাবকরা তাদের শিশু সন্তানদের বিদ্যালয় পাঠাতে চান না।
২০৭ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নাজমুল হক বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই এই রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। তাছাড়া, স্কুলে আসার পথে বই খাতা ভিজে দুর্ভোগে পড়ে তারা। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা নিতে যাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে।’
মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তাটির দৈন্যদশা সম্পর্কে অবহিত আছি। সরকারি বরাদ্দের প্রেক্ষিতে রাস্তার নির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হবে। এলাকাবাসীর গুরুত্ব বিবেচনায় কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণের জন্য বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্যের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
সময়ের আলো/মহু