মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ও কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন বায়রা ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য সেলিনা আক্তার এবং গারাদিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি খায়রুল ইসলাম মিলন।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বায়রা ইউনিয়নের আদর্শগ্রামের দরিদ্র নারীরা মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য আবেদন করেন।
সাহিদা নামের এক নারী অভিযোগ করেন, কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ইউপি সদস্য সেলিনাকে তিনি ৫ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছেন। পরে তিনি ভাতা হিসেবে একবার ২ হাজার ৪০০ এবং পরবর্তী দুদফায় ১ হাজার ৫০০ ও একবার ১ হাজার ২০০ টাকা পেয়েছেন।
একই গ্রামের শহিদুল মিয়ার অভিযোগ, তার স্ত্রীর ভাতার কার্ডের জন্য সেলিনাকে ১২ হাজার টাকা দিয়েছেন।
খাদিজা নামের আরেক নারী অভিযোগ করেন, কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে সিএইচসিপি খায়রুল ইসলাম মিলন তার কাছ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। তবে, এখনো তিনি ভাতা পাননি।
স্থানীয় আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে ভাতার তালিকা ও লেনদেন যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
তবে, টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য সেলিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। আমার জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে প্রতিপক্ষ এসব অভিযোগ করছে।’
সিএইচসিপি খায়রুল ইসলাম মিলনও অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি একজন ইউপি সদস্যকে ভাতার জন্য টাকা দিয়েছিলেন। ভাতা না হলে ওই টাকা ফেরত দিয়ে দেবেন।
সিংগাইর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সময়ের আলো/মহু