টাঙ্গাইলের বাসাইলে জমির আইল নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী দাদার ঘুষিতে নাতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের কলিয়া উত্তরপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম আনসার মিয়া (৫৪)। তিনি কলিয়া উত্তরপাড়ার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে বলে জানা গেছে। আহত জরিনা বেগম (৪৭) আনসার মিয়ার স্ত্রী। আনসার মিয়াকে হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম লাভু মিয়া ওরফে লেবু (৬৮)। পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে দাদা এবং নাতির সম্পর্ক রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির বলেন, কলিয়া গ্রামে জমির আইল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমরা সরাসরি মরদেহ দেখেছি। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হওয়ার পর রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহতের ভাতিজা রাশেদের অভিযোগ, আজ (রোববার) সকালে আমার চাচা তার নিজ ধনিয়া ক্ষেতের ফসল তুলে জমি মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় আমার চাচি তাকে সহায়তা করছিলেন। হঠাৎ পার্শ্ববর্তী জমির মালিক লেবু মিলিটারি এসে অভিযোগ তোলেন তার জমির আইল নষ্ট করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দাদা এবং নাতি উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে আনসার মিয়াকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি দেওয়া শুরু করেন তার দাদা লেবু মিলিটারি। এতে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আনসার মিয়া। এ সময় তার স্ত্রী জরিনা বেগম স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। তখন তাকেও বেধড়ক কিলঘুষি দেওয়া শুরু করেন লেবু মিলিটারি। মারধরের সময় আমার চাচা-চাচি চিৎকার করতে থাকেন। তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই।
সেখানে তাদের দুজনকে আহত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে উদ্ধার করে বাসাইল হাসপাতালে নিয়ে যাই তাদের। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. সাখাওয়াত হোসেন আমার চাচাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে ঘটনায় অভিযুক্ত লেবুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।