মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় রোববার টেনিস বিশ্ব এক নতুন রাজপুত্রে র দেখা পেয়েছে। টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি সার্বিয়ার নোভাক জোকোভিচকে ৩-১ সেটে হারিয়ে নিজের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে ইতিহাস গড়েছেন স্প্যানিশ তারকা কার্লোস আলকারাজ।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এই জমজমাট ফাইনালে আলকারাজ কেবল শিরোপাই জেতেননি, বরং পুরুষ টেনিস ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ‘ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম’ (চারটি ভিন্ন মেজর শিরোপা জয়) পূর্ণ করার অনন্য রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। স্প্যানিশ এই মহাতারকা জোকোভিচের ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে ম্যাচটি জিতে নেন ২-৬, ৬-২, ৬-৩, ৭-৫ গেমে।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল ১০ বারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচের দাপটে। প্রথম সেটে ৩৮ বছর বয়সী সার্বিয়ান তারকার অভিজ্ঞতার কাছে ২২ বছর বয়সী আলকারাজ কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন, যা জোকোভিচ কাজে লাগিয়ে ২-৬ ব্যবধানে সেটটি জিতে নেন। তবে দ্বিতীয় সেট থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেন বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর তারকা আলকারাজ। তার ক্ষিপ্র গতি আর নিখুঁত ফোরহ্যান্ডের সামনে জোকোভিচকে অসহায় মনে হচ্ছিল। ৬-২ গেমে দ্বিতীয় সেট জিতে ১-১ সমতায় ফেরার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি আলকারাজকে।
আরও পড়ুন
তৃতীয় সেটে নিজের ছন্দ বজায় রেখে ৬-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন আলকারাজ। তবে চতুর্থ সেটে জোকোভিচ মরণপণ লড়াই চালিয়েছিলেন ম্যাচটি টাইব্রেকারে নিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তরুণ প্রাণের উচ্ছ্বাসের কাছে হার মানতে হয় রেকর্ড ২৪টি গ্র্যান্ড স্লামের মালিককে। ৭-৫ গেমে সেটটি জিতে নিয়ে ইতিহাস গড়েন আলকারাজ। ২২ বছর ২৭২ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়ে তিনি ভেঙে দিয়েছেন রাফায়েল নাদালের ১৬ বছর আগের রেকর্ড (২৪ বছর ১০২ দিন)। এর মাধ্যমে ডন বাজ ও রড লেভারের মতো কিংবদন্তিদের সারিতে জায়গা করে নিলেন এই স্প্যানিশ সেনসেশন। অন্যদিকে ২৪টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী জোকোভিচের এককভাবে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ড গড়ার অপেক্ষা আরও বাড়ল।
আলকারাজের এই জয়কে মনে করা হচ্ছে টেনিস বিশ্বের ক্ষমতার চূড়ান্ত বদল হিসেবে। জোকোভিচ যেখানে তার প্রিয় আঙিনা মেলবোর্ন পার্কে এর আগে ১০ বার ফাইনাল খেলে একবারও হারেননি, সেখানে আলকারাজ তাকে হারিয়ে প্রমাণ করলেন বর্তমান টেনিস এখন তার কব্জায়। সাতটি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক আলকারাজ এখন টেনিসের সেই অভিজাত ক্লাবের সদস্য, যেখানে রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল এবং নোভাক জোকোভিচের মতো নক্ষত্ররা রয়েছেন।
এএডি/