‘নতুন ধানে নতুন প্রাণে, চল মাতি পিঠার ঘ্রাণে’ এই শ্লোগানে সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজ মাঠে ঐতিহ্যের স্বাদ ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে বাহারি রকমের পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) শীতের আমেজে ঐতিহ্যবাহী গ্রাম বাংলার নানা রকম পিঠার ঘ্রাণে মুখর হয়ে উঠেছে উৎসব প্রাঙ্গণ। ১৭ টি স্টলে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। তাদের নিজ হাতে তৈরি করা ৪০ রকমের দেশিয় পিঠাপুলি প্রদর্শন করা হয়।
জানা যায়, দিনব্যাপী পিঠা উৎসবে নতুন প্রজন্মের প্রাণবন্ত উৎসবে ভাপা, পাটিসাপটা, চিতই, দুধচিতই, পুলি, নকশি পিঠাসহ বাহারি রকমের দেশীয় পিঠা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। একদিকে মাটির চুলায় পিঠা বানানোর দৃশ্য, অন্যদিকে লোকসংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সব মিলিয়ে উৎসবটি পরিণত হয় আনন্দঘন মিলনমেলায়। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবে যোগ করে ভিন্নমাত্রা। অনেকেই নিজেদের হাতে তৈরি পিঠা নিয়ে অংশ নেন স্টলে, আবার কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ ও ছবি শেয়ারের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে অনলাইনে।
আয়োজকেরা জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার পিঠার ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন উৎসব আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
দর্শনার্থীরা জানান, এই ধরনের আয়োজন শুধু খাবারের স্বাদই নয়, সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গেও নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়। ঐতিহ্য আর তারুণ্যের মেলবন্ধনে সিরাজগঞ্জের এই পিঠা উৎসব ইতোমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বমহলে।
নকশী পিঠার দেশের উদ্যোক্তা (দর্শন বিভাগের) শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা জানান, নকশী পিঠা আমাদের গ্রামবাংলার শত বছরের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই এই ছোট উদ্যোগ। ভেজালমুক্ত উপকরণ আর হাতে তৈরি নকশার পিঠা দিয়ে আমরা চেষ্টা করছি হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে। পিঠা উৎসব আমাদের জন্য শুধু বিক্রির জায়গা নয়, এটি ঐতিহ্য তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ। মানুষের ভালোবাসা আর আগ্রহই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। প্রতিটি পিঠার উপরে মূল্য দেওয়া হয়েছে। যার যতটুকু প্রয়োজন ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
সরকারী কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ফেরদৌসী আরা’র সভাপতিত্বে আয়োজিত উৎসবে ইংরেজি বিভাগের রাকিবুল হাসান, ইসলামী ইতিহাসের ফিরোজ আহম্মেদ, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সারমিন সুলতানা, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের আল-আমিন, কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মহীউদ্দিন হাসান, শিক্ষার্থী ও ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/এসকে/জোআই/