ফ্যাক্টর হবে অদৃশ্য আ.লীগের ভোটার

সমীরণ রায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সরকারের পতনের

2026-02-03T00:31:03+00:00
2026-02-03T00:31:03+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
ফ্যাক্টর হবে অদৃশ্য আ.লীগের ভোটার
সমীরণ রায়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩১ এএম 
ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সরকারের পতনের পর দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় এবার নির্বাচনে থাকছে না নৌকা প্রতীক। ফলে একটি বড় রাজনৈতিক দল নির্বাচনের বাইরে থাকলেও, দলটির নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিপুল ভোটব্যাংক ঘিরে দেশের রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই আওয়ামী ভোটারদের অবস্থান রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে।

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট, জামায়াত-সমর্থিত রাজনৈতিক শক্তি, জাতীয় পার্টিসহ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় সব দলের কাছেই আওয়ামী ভোটাররা এখন গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করা এবং ভোটের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এ ভোটব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক হিসেবে তুলে ধরতে আওয়ামী ভোটারদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে চায় প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো।

মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য, মামলা-মোকদ্দমা ও পরিবার-পরিজনের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় অনেক আওয়ামী সমর্থক বিকল্প রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজ করছেন। যদিও তাদের দীর্ঘদিনের প্রতীক নৌকা এবার অনুপস্থিত এবং আদর্শগত ব্যবধানও স্পষ্ট, তবু বাস্তবতার চাপে তারা কোনো না কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে চাইছেন। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোট না দেওয়ার চেয়ে তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প বেছে নেওয়াই শ্রেয়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, আওয়ামী ভোটারদের সমর্থন পেতে বিএনপি ও জামায়াত সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। তৃণমূল পর্যায়ে এসব দলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। কোথাও কোথাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হয়রানি ও মামলা-জটিলতা কমানোর আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আওয়ামী ভোটারদের উদ্দেশে চলছে টার্গেটেড প্রচার। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টিও অতীতের রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আওয়ামী ভোটারদের সমর্থন প্রত্যাশা করছে। তবে দলটির নেতারাই স্বীকার করছেন, নিজেরাও নানা শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে নির্বাচন করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আওয়ামী সমর্থকদের বড় একটি অংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এর ওপর জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট আওয়ামী ভোটারদের আরও দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ফলে এনসিপিকে অনেকেই সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় আনছেন না। বরং বিএনপিকে তুলনামূলক নিরাপদ ও পরিচিত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখছেন অনেকে।

ভোটের ক্ষেত্রে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং ৫ আগস্টের পর আওয়ামী সমর্থকদের প্রতি তার অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক আওয়ামী ভোটার বলছেন, ওই সময় প্রার্থী বা তাদের কর্মীরা যদি তাদের ওপর নির্যাতন বা হয়রানিতে জড়িত থাকেন, তা হলে তারা সে প্রার্থীকে ভোট দেবেন না। আবার যেখানে সম্পর্ক ভালো কিংবা সহযোগিতামূলক আচরণ পাওয়া গেছে, সেখানে ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও দলটির ভোটব্যাংক আগামী সরকার গঠনে বড় প্রভাব ফেলবে। তার মতে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় অনেক আওয়ামী সমর্থক ইতিমধ্যে বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কোথাও কোথাও আওয়ামী সমর্থকদের বিএনপির নির্বাচনি সভা-সমাবেশে বক্তব্য দিতেও দেখা গেছে। তবে জামায়াতও নানা আশ্বাস দিয়ে এই ভোটব্যাংক টানার চেষ্টা করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের কট্টর বা আদর্শবাদী সমর্থকদের একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে না-ও যেতে পারে। তবে বড় একটি অংশ বাস্তবতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলছে। জামায়াত-এনসিপি জোটের কারণে বিএনপিকে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প মনে করছেন তারা। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, ক্ষমতার রাজনীতিতে আদর্শের চেয়ে সংখ্যার গুরুত্ব বেশি। তাই আওয়ামী ভোট টানতে বিএনপি ও জামায়াতের তৎপরতা অস্বাভাবিক নয়। তিনি মনে করেন, এ ধরনের রাজনীতি আদর্শিক রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও বিদ্যমান ক্ষমতাকাঠামো টিকে থাকা পর্যন্ত এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গেলে নিজেদের নিরাপত্তা, আদর্শিক ঘনিষ্ঠতা ও প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে না থাকলেও তাদের ভোটাররা রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছেন। ফলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী ভোটাররা কাকে ভোট দেবেন, সেই প্রশ্নের উত্তরই হয়ে উঠছে এবারের নির্বাচনের অন্যতম নির্ণায়ক।
প্রসঙ্গত, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় নির্বাচনে নৌকা প্রতীক থাকছে না। তাই ভোটের বাইরে থাকছে আওয়ামী লীগ।



Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: