সব মিছিলের গন্তব্য ছিল শহিদ মিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সব পথ ও মিছিল যেন এক বিন্দুতে এসে মেলে। সবার গন্তব্য একটাই শহিদ মিনার। সবার মুখে একই সুর, একই অঙ্গীকার।

2026-02-03T00:58:52+00:00
2026-02-03T00:58:52+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
সব মিছিলের গন্তব্য ছিল শহিদ মিনার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৮ এএম   (ভিজিট : ৭২)
সংগৃহীত ছবি
সব পথ ও মিছিল যেন এক বিন্দুতে এসে মেলে। সবার গন্তব্য একটাই শহিদ মিনার। সবার মুখে একই সুর, একই অঙ্গীকার। যেন এক সূত্রে গাঁথা একটি দিন একুশে ফেব্রুয়ারি। আর একুশের সব আয়োজন, সব আবেগ ও স্মরণ ঘুরে-ফিরে এই শহিদ মিনারকেই কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। কারণ শহিদ মিনার বাঙালির জীবনের প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে এক অনন্য তাৎপর্য বহন করে।

শহিদ মিনারের স্তম্ভগুলো যেন প্রতীকী অর্থে মাতৃভূমির রূপ। আর মাতৃভাষা এখানে মা ও তার শহিদ সন্তানদের অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের প্রতীক। মাঝখানে সবচেয়ে উঁচু ও সামনের দিকে সামান্য নত স্তম্ভটি প্রতীকী অর্থে মা বাংলা ভাষা। তার দুই পাশে ছোট-বড় চারটি স্তম্ভ যেন সন্তানের প্রতিরূপ। এ সন্তানরাই নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অসংখ্য শহিদের তাজা রক্তের বিনিময়েই আমরা পেয়েছি আমাদের মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা।
কবি তাই লিখেছেন ‘সালাম বরকত রফিক জব্বার তোমরা মোদের ভাই,/তোমাদের সেই ত্যাগের দিনটি আজও ভুলি নাই।’

শহিদদের উদ্দেশে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর লেখা সেই অমর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ প্রথমে ছিল একটি কবিতা। সেই কবিতাকে সংগীতের আশ্চর্য অমরত্ব দান করেছিলেন সুরকার আলতাফ মাহমুদ। তিনিও পরে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য শহিদ হন। সেই মনোগ্রাহী গান আজও বাঙালির প্রাণে, বুকে ও চেতনায় অনবরত বেজে চলে।

অন্যদিকে বায়ান্নর ২ ফেব্রুয়ারি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ ফেব্রুয়ারির ছাত্র সমাবেশের প্রস্তুতি ও প্রচারের জন্য নিবেদিত ছিল। সবার কণ্ঠে সেøাগান একটাইÑ ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল ও হোস্টেলে আলোচনার বিষয় ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণার প্রতিবাদ এবং সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন। সংগ্রাম পরিষদ গঠনের কর্মিসভায় বাংলার রাষ্ট্রভাষার দাবির পাশাপাশি অন্যতম প্রস্তাব ছিল রাজবন্দিদের মুক্তি। মিছিলে মিছিলে প্রতিবাদকারীদের স্লোগান ছিল ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’।

ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক তার স্মৃতিচারণায় লিখেছেন, ‘নীলক্ষেত ব্যারাকে থাকার সময় একজন বন্দির মুখে শুনেছি তাদের বিক্ষোভ, সভা ও মিছিলের কথা। সরকারি কর্মচারী হলেও তারা সাহস করে পাকিস্তানি উন্মাদনার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলার ব্যবহার না করার ক্ষোভ প্রকাশ পেত সভা ও স্লোগান।’

সেদিন চারপাশে সর্বত্র ছিল খাজা নাজিমুদ্দিনের উর্দু রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা ও ছাত্রদের প্রতিবাদের অনুরণন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শহরের ছাত্রসমাজে তখন শুধু প্রতিবাদের ঢেউ ছড়াচ্ছিল, যা পরবর্তী ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।

বাংলা ভাষা অর্জনের প্রতীক হয়ে বাঙালির প্রাণের শহিদ মিনার আজও অটল দাঁড়িয়ে আছে। যে শহিদ মিনার স্বাধীনতা সংগ্রামে দুর্বার প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল, তা শুধু অতীতেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানেও এই শহিদ মিনার নতুন করে আশ্চর্য এক বুকভরা সাহস ও প্রত্যয়ের জন্ম দিয়েছে।


Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: