শীতের সন্ধ্যায় উষ্ণতার ঠিকানা

কায়সার রহমান রোমেল, গাইবান্ধা

শীত আসে নীরবে। কুয়াশার চাদর মেলে ধরে ভোরের মাঠে, নরম রোদের আলোয় ভিজে ওঠে গাছের পাতা। এমন দিনে সন্ধ্যা নামলেই

2026-02-03T01:56:54+00:00
2026-02-03T01:56:54+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শীতের সন্ধ্যায় উষ্ণতার ঠিকানা
দুই বন্ধুর উদ্যোগে চালু ছোট্ট ক্যাফে এখন সাদুল্লাপুরের মানুষের নতুন আড্ডাস্থল
কায়সার রহমান রোমেল, গাইবান্ধা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৫৬ এএম 
সন্ধ্যা নামতেই ক্যাফে হাটখোলায় ভিড় জমে যায়, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে গরম চায়ের ধোঁয়া আর পোড়া রুটির মিষ্টি ঘ্রাণ। ছবি : সময়ের আলো
শীত আসে নীরবে। কুয়াশার চাদর মেলে ধরে ভোরের মাঠে, নরম রোদের আলোয় ভিজে ওঠে গাছের পাতা। এমন দিনে সন্ধ্যা নামলেই শরীর আর মন দুটোরই খোঁজ পড়ে একটু উষ্ণতার। এক কাপ গরম চা আর সঙ্গে যদি থাকে পোড়া রুটির স্বাদ তা হলে শীতের ক্লান্তিটুকু যেন মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়। উত্তরের জেলা গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরে ঠিক এমনই এক উষ্ণতার গল্প গড়ে উঠেছে। হাটের পাশের খোলা মাঠে বাঁশ, বেত আর পাটের সুতায় তৈরি এক সাদামাটা কিন্তু সৃজনশীল কাঠামোর দোকান নাম ক্যাফে হাটখোলা। দিনের আলোয় দোকানটি সাধারণ মনে হলেও সন্ধ্যা নামতেই বদলে যায় তার চেহারা। চারদিকে ভিড় জমে, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে গরম চায়ের ধোঁয়া আর পোড়া রুটির মিষ্টি ঘ্রাণ।

দুই বন্ধুর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই ছোট্ট ক্যাফে এখন সাদুল্লাপুরের মানুষের আড্ডার নতুন ঠিকানা। প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে ক্যাফে হাটখোলা। শীতের দিনে, বিশেষ করে ছুটির সন্ধ্যায় এখানে জায়গা পাওয়া দায় হয়ে পড়ে।

ক্যাফে হাটখোলার সবচেয়ে জনপ্রিয় আইটেম মালাই চা ও পোড়া রুটি। আগুনে পোড়া মাটির পাত্রে তৈরি ঘন দুধের মালাই চা প্রথম চুমুকেই শরীর জুড়িয়ে যায়। সাধারণ দুধ চায়ের সঙ্গে এর পার্থক্য স্পষ্ট; পুরু মালাই, পরিমিত মিষ্টতা আর ধোঁয়া ওঠা গরমভাব একে আলাদা করে তোলে। আর পোড়া রুটি নাম শুনে যতটা সাদামাটা মনে হয়, স্বাদে ততটাই ব্যতিক্রম। পাউরুটির ওপর দুধ, মধু আর তাদের নিজস্ব কিছু গোপন উপাদান মেখে চুলায় পুড়িয়ে আনা হয় বাদামি রঙে। হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন ফিরে আসে গ্রামের কোনো শীতের সকাল, খড়ের চুলার পাশে বসে রুটি খাওয়ার স্মৃতি।

এখানে শুধু মালাই চা আর পোড়া রুটিই নয়, পাওয়া যায় চটপটি ও ফুচকাও। দামও বেশ নাগালের মধ্যে চা ৩০ টাকা, পোড়া রুটি ৩০ টাকা। চা, রুটি আর চটপটি-ফুচকা মিলিয়ে পুরো সেট মাত্র ১০০ টাকা। স্বাদ আর দামের এই সমন্বয়ই টেনে আনছে বিভিন্ন বয়সের মানুষকে। তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষাও সঙ্গী। সন্ধ্যা নামলেই লাইন পড়ে যায়। ক্যাফের দুই উদ্যোক্তা ও তাদের সহকর্মীরা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লিটার দুধ আর শতাধিক রুটি বিক্রি করেন। ভিড় সামলেও চায়ের স্বাদ ঠিক রাখা আর ক্রেতাদের হাসিমুখে সামলানোর চেষ্টা করেন তারা।

ক্যাফেটির পরিবেশও আলাদা করে চোখে পড়ে। একপাশে খোলা সার্ভিস কাউন্টার, চারদিকে বাঁশের টং আর ছোট ছোট উন্মুক্ত কেবিন। গাছের গুঁড়ি কেটে বানানো টুল আর মাঝখানে একটি করে টেবিল। সেখানে বসে মানুষ গল্পে মেতে ওঠে। কেউ বন্ধুর সঙ্গে, কেউ পরিবারের সঙ্গে। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে শীতের সন্ধ্যা কেটে যায় অনায়াসে। ক্যাফে হাটখোলা এখন আর শুধু একটি চায়ের দোকান নয়, এটি হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগের এক ছোট্ট কেন্দ্র। লাইনে দাঁড়িয়ে অচেনা মানুষের সঙ্গে কথোপকথন, একসঙ্গে চায়ের কাপে চুমুক সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের মানবিক বন্ধন। শীতের সন্ধ্যায় সাদুল্লাপুরের মানুষ তাই উষ্ণতা খুঁজছে এই ক্যাফের চায়ের কাপে। মালাই চা আর পোড়া রুটি এখন শুধু খাবার নয়; শহরের একটি গল্প, একটি অনুভূতি। এমন এক অনুভূতি যা মানুষকে বারবার টেনে নেয় ক্যাফে হাটখোলার দিকে এক কাপ চা, একটু আড্ডা আর খানিকটা ভালো লাগার খোঁজে।


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: