সন্তানের আশায় কবিরাজি চিকিৎসা নিতে গিয়ে ধর্ষণের স্বীকার হন গৃহবধূ। ভুক্তভোগীর মামলায় আসামি কবিরাজ মুজা শেখ ওরফে মুজা কবিরাজের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মুজা কবিরাজ মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর শেখপাড়ার বাসীন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনার চিতল গ্রামের নিঃসন্তান দম্পতির কবিরাজ মুজা শেখের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে একই সালের ৮ মার্চ মুজা কবিরাজ দম্পতিকে তার বাড়িতে আসতে বলেন। গৃহবধূ স্বামীসহ কবিরাজের বাড়িতে আসলে কবিরাজ তাদেরকে চেতনানাশক ওষুধ সেবন করিয়ে কৌশলে অজ্ঞান গৃহবধূকে ধর্ষণ করে।
পরে স্বামীর জ্ঞান ফিরলে গৃহবধু বিষয়টি তার স্বামীকে অবগত করে। ভুক্তভোগী নারী বাদি হয়ে মেহেরপুর সদর থানায় একই দিনে কবিরাজ মুজা শেখের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলায় পুলিশ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পায় এবং মেহেরপুর সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহা দারা খান ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর মোজা শেখকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। পরে আদালতে প্রমানিত হওয়ায় মুজা কবিরাজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচরক।
মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, এই রায় সমাজে একটি বার্তা দেবে যে, ধর্মের দোহাই দিয়ে বা অপচিকিৎসার আড়ালে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। আমরা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পেরেছি। আশা করি এই রায়ের ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।
সময়ের আলো/জোআই/