রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) স্নাতকোত্তর পরীক্ষা চলাকালে নকলের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তার নাম আকিল বিন তালেব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন পরীক্ষার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম পিটার।
এর আগে, গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে এই নকলের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আজ মঙ্গলবার প্রকাশ্যে আসে।
অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আকিল বিন তালেবের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার নকলের অভিযোগ উঠেছিল। অন্তত দুইবার নকল করতে গিয়ে তিনি ধরা পড়েন। একবার সংশ্লিষ্ট কোর্সে তাকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও পরে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। তাকে বারবার ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সহপাঠীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী জানান, সোমবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে আকিল বিন তালেব নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েন। অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম পিটার বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরীক্ষা শেষে শিক্ষকদের মধ্যে একটি বৈঠক হলেও সেখানে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে ডিউটিরত শিক্ষক অধ্যাপক পিটার বলেন, বিভাগ থেকে সরবরাহকৃত প্রশ্নপত্রে প্রথম পৃষ্ঠার পুরোটা এবং দ্বিতীয় পৃষ্ঠার অর্ধেক অংশজুড়ে প্রশ্ন ছিল। অথচ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর প্রশ্নপত্রের দুই পৃষ্ঠাজুড়েই লেখা পাওয়া যায়। ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখা যায়, দ্বিতীয় পৃষ্ঠার পুরোটা আগেই উত্তর কম্পোজ করে লেখা ছিল।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি প্রধান ইনভিজিলেটর অধ্যাপক আব্দুল আলিম ও দায়িত্বরত শিক্ষক অধ্যাপক আনিসুর রহমানকে অবহিত করেন। প্রাথমিকভাবে প্রশ্নপত্রের ওই অংশ কেটে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন অধ্যাপক পিটার।
এ বিষয়ে প্রধান ইনভিজিলেটর অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, নকল সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তার কাছে আসেনি। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে বিষয়টি তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে জানেন বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক আব্দুল আলিম।
অভিযোগ অস্বীকার করে আকিল বিন তালেব বলেন, পরীক্ষার সময় আমি শুধু একজন বন্ধুর সঙ্গে পাশ ফিরে কথা বলছিলাম। এ সময় অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম পিটার আমাকে পরীক্ষা-কক্ষে কথা না বলতে সাধারণভাবে সতর্ক করেন। গতকাল পরীক্ষা-কক্ষে নকলের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাইয়্যেদা আঞ্জুর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঢাকায় একটি বৈঠকে আছেন জানিয়ে প্রতিবেদকের ফোন কেটে দেন তিনি।
এফআর