দীর্ঘদিনের প্রকাশ্য কথার লড়াই ও আদর্শগত দূরত্বের পর অবশেষে হোয়াইট হাউসে মুখোমুখি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। প্রথম এই সরাসরি বৈঠককে দুই নেতাই বর্ণনা করেছেন ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ’ হিসেবে।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত হয় প্রায় দুই ঘণ্টার এই বৈঠক। তবে অন্য বিদেশি নেতাদের সফরের মতো আনুষ্ঠানিকতা বা জাঁকজমক চোখে পড়েনি। বৈঠক চলাকালে সাংবাদিকদের উপস্থিতিও ছিল না। পরে ট্রাম্প ও পেত্রো আলাদাভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।
এর আগে বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, আদর্শিকভাবে বিপরীত মেরুতে থাকা এই দুই নেতার সাক্ষাৎ হয়তো উত্তেজনাপূর্ণ হতে পারে। কারণ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একে অপরের বিরুদ্ধে কটাক্ষমূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় ছিলেন তারা। তবে বাস্তবে সেই আশঙ্কা সত্য হয়নি।
বৈঠক শেষে কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক সমঝোতার ঘোষণা না এলেও দুই প্রেসিডেন্টই আলোচনার ফল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার রোধে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।
আরও পড়ুন
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক এখন ভালো। আগে আমরা বন্ধু ছিলাম না ঠিকই, কিন্তু আমি কখনোই অপমানিত বোধ করিনি। কারণ, এর আগে আমরা একে অপরকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম না।’
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন গুস্তাভো পেত্রো। সেখানে ট্রাম্পের হাতে লেখা একটি নোটের ছবি শেয়ার করা হয়, যাতে লেখা ছিল- ‘গুস্তাভো- এটা একটি বড় সম্মান। আমি কলম্বিয়াকে ভালোবাসি।’ পোস্টে দুই নেতার করমর্দন ও হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকার ছবিও যুক্ত করা হয়।
কলম্বিয়ার একটি বেতার মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেত্রো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে যে মতবিরোধের চিত্র দেখা যায়, বাস্তবে বৈঠকে তার প্রতিফলন তিনি দেখেননি। তার মতে, কিছু বিরোধ মূলত ট্রাম্পের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশি ছিল।
পেত্রো জানান, কলম্বিয়ার বাইরে অবস্থানরত বড় মাদক পাচারকারীদের গ্রেফতারে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডরের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার অনুরোধও করেছেন ট্রাম্পের কাছে। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
পেত্রোর দাবি অনুযায়ী, এ বিষয়ে ট্রাম্প নোবোয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সম্মত হয়েছেন। এর আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পর ট্রাম্প-পেত্রোর সম্পর্ক চরম উত্তেজনায় পৌঁছায়। সে সময় পেত্রোকে নিয়ে ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। তবে সর্বশেষ এই বৈঠকে সেই উত্তেজনার বরফ অনেকটাই গলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এএডি/