নড়াইলে এক সময়ের পড়ে থাকা অনাবাদি জমি এখন সবুজের সমারোহে ভরে উঠেছে। ঘেরের পাড় ও ফসলি জমিতে শীতকালীন শিম চাষ করে ভাগ্যের চাকা বদলে নিচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। কম খরচে অধিক মুনাফা আর বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় জেলা জুড়ে এর চাহিদা বাড়ছে।
নড়াইল সদর উপজেলার ভওয়াখালী গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দিগন্তজোড়া মাঠ আর ঘেরের পাড়ে লতায় লতায় ঝুলছে ঘৃতকাঞ্চন, আশ্বিনা, কার্তিকা এবং বারি-১ ও ২ জাতের শিম। অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষি বিভাগের সঠিক দিক-নির্দেশনায় এবার ফলন হয়েছে চোখে পড়ার মতো।
ভওয়াখালী গ্রামের সফল কৃষক মো. আশরাফুজ্জামান জানান, তিনি এবার ঘেরের পাড়ে শিম চাষে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। তবে এরই মধ্যে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন তিনি।
আশরাফ বলেন, প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ কেজি শিম বাজারজাত করছি। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী আশা করছি সব মিলিয়ে ৩ লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন।
শিম চাষ কেবল চাষিদের ভাগ্য ফেরায়নি, গ্রামীণ নারীদের জন্য সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত শিম তোলার কাজে ব্যস্ত থাকছেন স্থানীয় নারী শ্রমিকরা। গড়ে ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে কাজ করে সংসারে সচ্ছলতা আনছেন তারা।
নারী শ্রমিক কবিতা পাঠক জানান, এই বাড়তি আয় দিয়ে তাদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ ও সংসারের টুকটাক চাহিদা মিটে যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নড়াইলে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৮৩ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শের ফলে বিষমুক্ত শিম উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন চাষিরা।
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, জেলায় এবার শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে ঘেরের পাড়ে বহুমুখী সবজি চাষ স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা এবং সরকারিভাবে বাজারজাতকরণের সহযোগিতা পেলে নড়াইলের এই বিষমুক্ত শিম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বড় পরিসরে সরবরাহ করা সম্ভব। এতে জেলার কৃষিখাত আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
সময়ের আলো/জোআই/