জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট চলমান তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন শিক্ষকের নাম ও ছবি ব্যবহার করে প্রশাসনিক ভবনে একটি ব্যানার টানানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কোনো ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে অভিযুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিমালা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় হলো যুক্তিনিষ্ঠ চিন্তা, নৈতিকতা ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার চর্চাকেন্দ্র। এখানে যেকোনো অভিযোগের নিষ্পত্তি আবেগ, চাপ বা জনমত তৈরির মাধ্যমে নয়; বরং নির্ধারিত তদন্ত ও বিচারিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই হওয়া উচিত। চলমান তদন্তের বাইরে গিয়ে এ ধরনের প্রকাশ্য পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পেশাগত মর্যাদা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং পারিবারিক সম্মানের ওপর অপূরণীয় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
শিক্ষক সমিতি আরও উল্লেখ করে, ক্যাম্পাসে প্রতিনিধিত্বশীল ছাত্র সংগঠন সমূহের ভূমিকা হওয়া উচিত স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা, ন্যায়বিচার এবং দায়িত্বশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বিচার নির্ধারণের প্রবণতা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্যও সহায়ক নয়।
বিবৃতির শেষাংশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ন্যায়ভিত্তিক, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পক্ষে তাদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
সময়ের আলো/জোআই/