জামায়াতের ইশতেহারে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার, আত্মনির্ভরতার অঙ্গীকার

অলিউল ইসলাম

নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিতে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে হোটেল

2026-02-05T00:50:41+00:00
2026-02-05T01:17:32+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
জামায়াতের ইশতেহারে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার, আত্মনির্ভরতার অঙ্গীকার
অলিউল ইসলাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫০ এএম  আপডেট: ০৫.০২.২০২৬ ১:১৭ এএম
রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার নির্বাচনি ইশতেহার উন্মোচন করেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার। ছবি : আবদুল হালিম
নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিতে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে এ ইশতেহার তুলে ধরেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে সংস্কার, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন, সুশাসন নিশ্চিত, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উন্নতি, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ প্রভৃতি। নব্বই পৃষ্ঠার ইশতেহারে জামায়াত মোট ৪১টি খাতে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এ ছাড়া ক্ষমতায় গেলে আগামী ৫ বছর কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান শুরু হয়। ইশতেহার ঘোষণার আগে ও পরে আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনায় দলটির অঙ্গীকার তুলে ধরে দুটি ভিডিও উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এতে নির্বাচনে জয়ী হলে দলটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও অঙ্গীকারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য দিতে মঞ্চে আসেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ইশতেহার ঘোষণার সময় তার এক্স অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ‘নারী বিদ্বেষী’ একটি পোস্টকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, আমি আহত পাখির মতো এখন। আমার ওপর যেভাবে কয়েক দিন ধরে মিসাইল চলছে। আমি অ্যান্টি মিসাইল ব্যবহার করিনি। যারা এটা করেছে আমি তাদের মাফ করে দিয়েছি। আমি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।

সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার রক্ত ও মেজাজের সঙ্গে প্রতিশোধ যায় না। ভুলের জন্য আমি যদি ক্ষমা করতে না পারি, ক্ষমা চাইতে না পারি তা হলে আমার ভুলের জন্য ক্ষমা চাইব কীভাবে? আমি প্রতিশোধের পথে হাঁটতে চাই না। তা হলে আমার ওপর আরেকজনের প্রতিশোধ নেওয়া প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায়।

নির্বাচনের আগে ঘরে-বাইরে কোথাও শান্তি নেই মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, চারদিকে হাহাকার চলছে। আগের সরকারের সময়কার লুটপাট ও অর্থ পাচারের সমালোচনা করে তিনি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন। তার দল সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে সবার জন্য ন্যায় ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তুলে ধরেন।

জামায়াত ক্ষমতায় এলে কী কী পরিবর্তন ঘটবে তা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্যে তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছি, নির্বাচনে আমি জামায়াতের বিজয় চাই না, আমি চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আমাদের দলের ইশতেহার তৈরিতে লাখ লাখ মানুষ মত দিয়ে সহযোগিতা করেছে। তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের লোকরা সহযোগিতা করেছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ইশতেহারকে জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, শান্তিবান্ধব, শৃঙ্খলাবান্ধব বলে এ সময় তিনি দাবি করেন।

প্রবাসীদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, বেকার ভাতা নয়, বরং আমরা তোমাদের হাতে কাজ তুলে দেব। আমাদের এখানে চা বাগান থেকে উঠে আসা তরুণও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, আমরা এমনভাবে গড়তে চাই।

নারীদের কর্মঘণ্টা ও অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও বলেন জামায়াতের আমির। ইশতেহারকে দলীয় কর্মসূচি হিসেবে নয় জাতির প্রতি জীবন্ত দলিল হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি জনগণের কাছে জীবন্ত দলিল হিসেবে থাকবে। রাজনৈতিক দলগুলো সমাজের প্রতি দায়বব্ধতা ও অঙ্গীকার থেকেই ইশতেহার দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ছাড়াও দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ইশতেহার ঘোষণার এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকার পরিচালনায় জামায়াতের মোট ২৬টি অগ্রাধিকার এই ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে। ইশতেহারের প্রথম ভাগে জুলাই বিপ্লবের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার, রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার, জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ এবং আইন ও বিচারব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।

ইশতেহারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগে আত্মনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বাণিজ্য, শিল্প, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয় ইশতেহারে। এ ছাড়া কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যুবকদের নেতৃত্বে প্রযুক্তি বিপ্লবের রূপরেখা ইশতেহারের বিভিন্ন অংশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নারী ও শিশু নিরাপত্তা, সমাজকল্যাণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

জামায়াত জানায়, জনতার ইশতেহার তৈরিতে অ্যাপভিত্তিক প্রচার মাধ্যমে পাওয়া ৩৭ লাখের বেশি জনমতের প্রতিফলন রাখা হয়েছে। দলটির দাবি, জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রয়োজনকে সামনে রেখেই এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, এই ইশতেহার আমরা অত্যন্ত বড় আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে প্রকাশ করেছি। বাংলাদেশে চলে আসা অকার্যকর রাজনীতির যে ধারা রয়েছে, তাকে বদলে দেওয়ার আশায় আমরা এই সুযোগ সৃষ্টি করতে চাইছি। আর সেই সুযোগ আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি। আপনার একটি মূল্যবান ভোট, আপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মতামত এই জাতিকে একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে পারে। বাংলাদেশ তার মানচিত্র বদলাবে না, কিন্তু গুণগত মান ও অর্জনের দিক থেকে অনেক এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমরা একটি সহিষ্ণু, মানবিক বাংলাদেশ চাই। একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। আমরা শ্রেণি থেকে শ্রেণিতে বিদ্যমান সীমাহীন বৈষম্য দূর করতে চাই এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলেই সমাজের অন্তত ৭০ শতাংশ সমস্যা দূর হয়ে যাবে। বাকি সমস্যা আমরা সবাই মিলে যৌক্তিক ও কার্যকর পদ্ধতির মাধ্যমে সমাধান করতে পারব ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশ আর পিছিয়ে পড়ে থাকবে না মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, যুবসমাজের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আজ এই জাতির ঘাড়ে ১ হাজার ৪০০ মরদেহ এবং রক্তের দাগ। তারা জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ উৎসর্গ করে আমাদের জন্য একটি নতুন পথ রচনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। আমরা কখনোই এই ত্যাগকে অবহেলা করব না। তাদের এই আমানতের কোনো খেয়ানত করব না। আমরা এই আমানত ও আকাক্সক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

সময়ের আলো/আআ




  বিষয়:   জামায়াত  ইশতেহার  নির্বাচন  আত্মনির্ভরতা 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: