‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়্যা নিবার চায়’। কারা নিতে চেয়েছিল আজ কারও অজানা নয়। কিন্তু নিতে পারেনি। আর এর জন্য তরুণরা বুকের রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছিল। সেই রক্তের পথ বেয়ে এলো স্মৃতির মিনার। যাকে বলা হয় শহিদ মিনার। এ কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার বাঙালির জীবনের প্রতিটি আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে গভীর তাৎপর্য বহন করে।
ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার মূল ভিত। যার ফল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশের অর্জন। স্বাধীনতা-সংগ্রামে শহিদ মিনার দুর্বার প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। প্রথম শহিদ মিনার নির্মিত হয় ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি।
বর্তমানে যে জায়গায় শহিদ মিনার তার পূর্ব-দক্ষিণ কোণে সে সময়ের মেডিকেল হোস্টেলের ১২ নম্বর শেডের পূর্বপ্রান্তে কোনাকুনিভাবে। যেখানে শহিদদের রক্তভেজা স্থান। সাড়ে ১০ ফুট উঁচু ও ৬ ফুট প্রস্থের এই ছোট স্থাপত্যটি নির্মাণ হয় প্রকৌশলী শরফুদ্দীনের তত্ত্বাবধানে। ডিজাইন করেন বদরুল আলম ও সাইদ হায়দার। নির্মাণে দুজন রাজমিস্ত্রি সহযোগিতা করেন। তাদের নাম অবশ্য এখনও জানা যায়নি।
ঢাকা মেডিকেলের ছাত্ররাই এ শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। অবশ্য শিল্পী হামিদুর রহমান আর পুরান ঢাকার পিয়ারুর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। নির্মাণের পর কাগজে ‘শহিদ স্মৃতি স্তম্ভ’ লিখে মিনারে সেঁটে দেওয়া হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি মিনারটি উদ্বোধন করেন ভাষাশহিদ সফিকের বাবা। কিন্তু ২৬ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারটি ভেঙে দেওয়া হলো। প্রত্যক্ষ সাক্ষী সে সময়ের ছাত্র আবুল কালাম আজাদ। পরবর্তী সময়ে তিনি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত লাভ করেন। তিনি লেখেন, স্মৃতির মিনার ভেঙেছ তোমরা? ভয় কি বন্ধু আমরা চার কোটি পরিবার খাড়া রয়েছি।
সময়ের আলো/আআ