এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে : পুতুল

মাসুদুর রহমান

সম্প্রতি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২৩’ ঘোষণা করেছে সরকার। এতে সেরা সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে ‘সাঁতাও’। দেশ-বিদেশের নানা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা কুড়োনোর পর

2026-02-05T03:51:04+00:00
2026-02-05T03:51:04+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে : পুতুল
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২৩
মাসুদুর রহমান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫১ এএম 
অভিনেত্রী নাহার পুতুল। সংগৃহীত ছবি
সম্প্রতি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২৩’ ঘোষণা করেছে সরকার। এতে সেরা সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে ‘সাঁতাও’। দেশ-বিদেশের নানা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা কুড়োনোর পর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে যেন নিজের দীর্ঘ যাত্রার সবচেয়ে কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছাল সিনেমাটি।সিনেমাটিতে অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রী অর্জনে পুতুলের অনুভূতিটা বেশ সাদামাটাই। তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। এটি সত্যি, নাকি স্বপ্ন সেই দ্বিধা এখনও কাটেনি। এই বিশাল প্রাপ্তির অনুভূতি হয়তো ধীরে ধীরে উপলব্ধি করতে পারব। পুরো দলের সবার সম্মিলিত ত্যাগ ও সহযোগিতার কারণে আমি অভিনয় করতে পেরেছি। 

এই প্রাপ্তি আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। সিনেমাটির জন্য পুরো টিম দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রম করেছে। শুধু আমি একা নই, প্রোডাকশন বয় থেকে শুরু করে ক্যামেরার পেছনের প্রতিটি মানুষই এই সিনেমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। জনগণের টাকায় ‘সাঁতাও’ নির্মিত হয়েছে। এ জন্য যারা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। বিশেষ করে সিনেমাটির পরিচালককে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা আমাকে যোগ্য মনে করেছেন, সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি দিয়েছেন।

পুতুল এই স্বীকৃতির খবরটা প্রথম শোনেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক বন্ধুর কাছে। তবে নিশ্চিত হন প্রজ্ঞাপন দেখে। এই সুখবরটি প্রথমে জানান তার মাকে। অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ভাইকেও জানাতে বিলম্ব করেননি। স্বামীকে সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে নিজেই চমকে যান। কেক নিয়ে এসে বাসায় হাজির হয়ে পুতুলকে অভিনন্দন জানান তার স্বামী। এত আনন্দের মুহূর্তে বাবার অনুপস্থিতি বিষণ্ন করেছে অভিনেত্রীকে। তিনি বলেন, এত সুন্দর একটি খবর জেনে বাবা যেতে পারলেন না। যতবারই উচ্ছ্বসিত হচ্ছি ততবারই বাবার শূন্যতা অনুভব করছি। উনি যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তা হলে এই খবরটা শুনে কতটা খুশি হতেন, সেটা ভাবলেই চোখ ভিজে আসে। জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই বাবার অনুপস্থিতি অনুভব করেছি কিন্তু এখন সেটা আরও তীব্রভাবে টের পাচ্ছি। 

‘সাঁতাও’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন খন্দকার সুমন। এর গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপও লিখেছেন পরিচালক। রংপুর অঞ্চলে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘সাঁতাও’। তাই রংপুর অঞ্চল ঘিরে গড়ে উঠেছে সিনেমার গল্প। গণঅর্থায়নে এটি নির্মাণ করতে সময় লাগে কয়েক বছর। ‘সাঁতাও’ সিনেমাটি নিয়ে পুতুল বলেন, ‘সাঁতাও’ আমার জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়। এই সিনেমাটি করতে গিয়ে আমি শুধু একটি চরিত্র নয় বরং একটি ভিন্ন জীবনধারা ও মানসিকতার ভেতর দিয়ে গেছি। সিনেমাটির প্রতিটি দৃশ্যের পেছনে অসংখ্য মানুষের পরিশ্রম, চিন্তা ও দায়বদ্ধতা জড়িয়ে আছে। তাই এই সিনেমার জন্য পাওয়া স্বীকৃতিকে আমি ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখি না। এটা পুরো টিমের সম্মিলিত সাফল্য। নির্মাতা খন্দকার সুমন ভাইয়ের নির্দেশনা ও সহযোগিতা আমাকে চরিত্রটিকে গভীরভাবে বোঝার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি, সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে।

প্রতিটি সাফল্য মানুষকে দায়িত্ববান ও কাজের প্রতি আরও সচেতন করে তোলে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে এই সম্মান, দায়িত্ববোধকে কীভাবে প্রভাবিত করবে জানতে চাইলে পুতুল বলেন, এই স্বীকৃতি আমাকে শুধু আনন্দ দেয়নি বরং আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। সামনে কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে, নিজের সর্বোচ্চটা দিতে হবে। এই বোধটা আরও গভীর হয়েছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমি চাই, আমার কাজের মাধ্যমে দর্শকের বিশ্বাস ধরে রাখতে এবং দেশের শিল্পচর্চায় নিজের জায়গা থেকে সৎ অবদান রাখতে। 

‘সাঁতাও’ সিনেমার শুটিং শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। নানা সংকট ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ শেষ হয় ২০২২-এ। কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, এই সিনেমার মধ্য দিয়ে প্রথম কোনো সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে আমার অভিনয় করা। আমার চরিত্রের নাম ‘পুতুল’। মুখ্য নারী চরিত্র। এ সিনেমায় পুতুলের মাতৃত্বের সংকট তুলে ধরা হয়েছে। তার স্বামী ফজলুল হক কৃষক। তার জীবনের সবকিছু ফসলকেন্দ্রিক। আমরা তিস্তার পাড়ে শুটিং করেছি। শুটিংয়ের প্রতিটি দিনই আমার জন্য শিক্ষণীয় ছিল। কিছু দৃশ্য ছিল মানসিকভাবে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং, আবার কিছু মুহূর্ত ছিল ভীষণ আবেগঘন।

‘সাঁতাও’ সিনেমায় পুতুল ছাড়া প্রায় অভিনয়শিল্পীই অপরিচিত। বড় কোনো প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারেও নির্মিত হয়নি সিনেমাটি। ২০২৩ সালে মুক্তি পেলেও হল পেয়েছিল মাত্র কয়েকটি। সেই ‘সাঁতাও’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা সিনেমা নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে পুতুল বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসার আগ পর্যন্ত আমরা হাল ছাড়ার পক্ষে ছিলাম না। হতাশ না হয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম সবসময়। কারণ হতাশা কখনো ভালো কিছু বয়ে আনেনা। আমরা চেয়েছিলাম সিনেমাটি দর্শক পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। কারণ এই সিনেমায় শুধু একটি অঞ্চল উপস্থাপন করা হয়নি, পুরো দেশ তুলে ধরা হয়েছে। কৃষকদের সংগ্রামী জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখানো হয়েছে। ২০২৩ সালে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মাধ্যমে আমাদের সেই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পূরণ হয়। সীমিত পরিসরে হলেও সিনেমাটি দর্শকের সামনে আসে আমাদের প্রত্যাশায় প্রাপ্তি এনে দেয়।

‘সাঁতাও’ সিনেমার পর প্রেক্ষাগৃহে আর দেখা যায়নি পুতুলকে। এ ছাড়া অভিনয়েও নিয়মিত নন তিনি। এ প্রসঙ্গে পুতুল বলেন, পারিবারিক কারণে আমি অভিনয়ে নিয়মিত সময় দিতে পারছি না বলেই নতুন সিনেমায় দেখা যায়নি আমাকে। তবে সম্প্রতি কাজে ফিরেছি। ধীরে ধীরে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করছি। 

বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা নিয়ে পুতুল বলেন, অভিনয় করছি। এর মধ্যে কয়েকটি কাজ করেছি। এ ছাড়া উপস্থাপনা করছি। ‘বৈশাখী ফোক’ ও ‘গোল্ডেন সং’ নামে দুটি গানের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছি বৈশাখী টেলিভিশনে। উপস্থাপনা কেমন উপভোগ করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে পুতুল বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নাটক ও নাট্যতত্ত্ব’ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলাম আমি। থিয়েটারের সঙ্গেও জড়িত। সেই সুবাধে গানের শিল্পীদের সঙ্গে সম্মিলিত কণ্ঠে গাইতে কখনো কখনো মঞ্চে উঠতে হয়েছে। একক কণ্ঠে না গাইলেও গান ভালোবাসি। অভিনয়ের লোক হলেও গানের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা বেশ ভালো লাগে, অনেক উপভোগ করি।

সময়ের আলো/আআ


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: