বাংলাদেশকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্য তুলে ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে জানান, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ খেলবে না তার দেশ। তিনি বলেন,আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। কারণ খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমরা খুব ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি মনে করি, এটি খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন পাক প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগ আমলে না নিয়ে বাংলাদেশ দলকে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়। বাংলাদেশ ভারতে দল পাঠাতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাইলেও আইসিসি বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গত সপ্তাহেই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত জানালেও, এর পেছনের কারণ এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হচ্ছে ২০২৬ আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই টুর্নামেন্টে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে গত রোববার পাকিস্তান সরকারের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, ভারত–ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান দল। এবার সেই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করলেন শাহবাজ শরিফ।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এর আগে আইসিসির দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে যদি নিরাপত্তাশঙ্কা বিবেচনা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন তা করা হলো না?
তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। এছাড়া আইসিসি বোর্ড সভায় বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন মহসিন নাকভি।
/ইউএমএইচ