টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি খেলবে কি না- এ নিয়ে এখনও স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এ কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। পাকিস্তানকে ম্যাচ খেলতে রাজি করাতে নেপথ্যে আলোচনা চালাচ্ছে সংস্থাটি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোয় টানা বৃষ্টির কারণে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে সালমান আগার নেতৃত্বাধীন দল। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের বহুল আলোচিত ম্যাচটি এখনও অনিশ্চিতই থেকে গেছে।
এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও এ বিষয়ে পিসিবির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। আর এখানেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ আইসিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানটি হলো পিসিবি- পাকিস্তান সরকার নয়। ফলে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়া আইসিসি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বা জরুরি সভা ডাকতে পারছে না।
আরও পড়ুন
পাকিস্তান সরকারের অবস্থান আমলে নিয়ে আইসিসি এক বিবৃতিতে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছে, পিসিবিকে দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। তবে এ বক্তব্যের পরও পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি।
এই অবস্থায় ‘ব্যাকচ্যানেল ডিপ্লোম্যাসি’র পথে হেঁটেছে আইসিসি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ও সিঙ্গাপুর ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ইমরান খাজাকে পিসিবির সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাবেক ক্রিকেটার ও পেশায় আইনজীবী ইমরান খাজা পিসিবিকে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি ও আইনি জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরছেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ভারত ম্যাচ বর্জন করলে বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ‘জিওস্টার’ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। এমনকি আইসিসি পাকিস্তানের বার্ষিক অনুদান থেকে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেটে রাখতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের জিও টিভির এক প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, আইসিসির পক্ষে সরাসরি এমন জরিমানা আরোপের সুযোগ নেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছর ভারতও সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে যায়নি, যেখানে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির যুক্তি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে ইএসপিএন ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে দুই আইনজীবী নন্দন কামাথ ও রেজা আলির বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে। তাদের মতে, অংশগ্রহণ চুক্তির ১২ নম্বর ধারায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ বা সন্ত্রাসী হামলার মতো পরিস্থিতিকে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনাও কিছু ক্ষেত্রে এই ধারার আওতায় আসতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে অবশ্যই আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে এবং সরকারের লিখিত নির্দেশের প্রমাণ দিতে হবে।
সব মিলিয়ে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচটি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটাতে আইসিসির ওপর চাপ বাড়ছে। এখন পিসিবির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব ক্রিকেট।
এএডি/