জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নর্থবেঙ্গলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী করা হবে। একাধিক কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে। এ অঞ্চলের কৃষক বা খামারিরা তাড়াহুড়ো করে ফসল বিক্রি করায় দাম পায় না। সারা বছর মানুষ খেতে পারে না। ধান ও ফল গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। সংরক্ষণাগার করা হবে যাতে সারা বছর ফসল সংরক্ষণ করা যায়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, কয়েকদিন থেকে আমার ওপর মিসাইল নিক্ষেপ করা হচ্ছে। যারা দেশকে গোলাম করে রাখতে চায়, তারা আমার পুরাতন ফেসবুক আইডি হ্যাক করে আমার ওপর মিসাইল নিক্ষেপ করছে। আমাদের সাইবার টিম বিষয়টি শনাক্ত করেছে এবং একজনকে আটকও করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নওগাঁ দেশের চাহিদার ১০ ভাগের একভাগ খাদ্যশস্য উৎপাদন করে। কিন্তু এ জেলার উন্নয়ন হয়নি। শহরের প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং মানসম্পন্ন হাসপাতাল হওয়া দরকার। আগামীতে ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করা হলে জেলার উন্নয়ন করা হবে।
পর্যটন নিয়ে তিনি বলেন, জেলায় সম্ভাবনাময় অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে পর্যটন খাতে কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা নওগাঁর পর্যটন নিয়ে কাজ করতে চাই।
জামায়াত আমির বলেন, দেশ ৫৫ বছরে বার বার শহিদ হয়েছে। যারা ক্ষমতায় গিয়েছে, নিজেরা লুটেপুটে খেয়েছে। জনগণের টাকা চুরি ও লুণ্ঠন করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা চুরি করেছে। যারা জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। সেই পাচার করা অর্থ পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনবো। আমরা ক্ষমতায় গেলে আর নতুন করে চুরি করতে দেওয়া হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগস্টে যেসব ছেলে-মেয়ে ও যুবকেরা রাস্তায় নেমে সংগ্রাম করেছিল, তারা কখনো বেকার ভাতা চাইনি। কিন্তু এখন কেন দিতে চাওয়া হচ্ছে? তবে আমরা তাদের পেশায় দক্ষ করে তুলবো। কাজ করো, দেশ গড়ো, দেশ তোমরা বদলে দাও।
নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমিরে জামায়াত বলেন, জুলাইয়ে মা বোনদের বিশেষ অবদান ছিলো। আবু সাঈদ আমাদের অহংকার, জাতির অহংকার। তোমাকে স্যালুট, তোমার জীবনের বিনিময়ে নতুন দেশ দিয়েছ। তুমি গর্বিত মায়ের সন্তান। নারীদের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারবে না সেই পরিবেশ বাংলাদেশে তৈরি করা হবে। মায়ের অপমান কেউ সহ্য করবে না। মায়ের অপমান হলে যুবকেরা আবারও গর্জে উঠবে।
তিনি আরো বলেন, দেশে সব ধর্মের মানুষ বসবাস করে। কোনো মেজোরিটি-মাইনোরিটি মানবো না। কোনো বৈষম্য চলবে না। মুসলমান কেন ভয়ে থাকবে? সব অনিয়ম গুড়িয়ে দেওয়া হবে। ইনসাফের দাবি পূরণ করার জন্য অবহেলিত এলাকার আগে উন্নয়ন করা হবে। পরে প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন প্রধান অতিথি।
এ সময় ৫ আগস্টে শহিদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের প্রার্থী খ.ম আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, এবি পার্টি আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী মো. মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী মো. খবিরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দিন, ছাত্র শিবিবের কেন্দ্রীয় সাবেক সেক্রেটারি আ.স.ম মামুন শাহিন, মাওলানা মুফতি ইসরাফিল আলম, জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব এবং শহিদ ফাহমিনের মা কাজী নুলুন মাখমিনসহ অন্যরা।
সময়ের আলো/আআ